আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ে মানেই বিশ্বাস, বিশেষত আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে সন্তুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ দাম্পত্যে। সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরলে তার প্রভাব সবচেয়ে গভীর হয় জীবনের সংবেদনশীল সময়গুলোতে। ঠিক এমনই এক ঘটনায় শিউরে উঠেছে নেটদুনিয়া। সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া ৩২ বছরের এক মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে জানিয়েছেন, কীভাবে মাতৃত্বের একেবারে শুরুতেই তাঁর জীবন ও বিশ্বাস চূর্ণ হয়ে যায়, যখন তিনি জানতে পারেন, বছরের পর বছর ধরে স্বামী গোপনে নিজের প্রকৃত আয় ও সঞ্চয় লুকিয়ে রেখেছিলেন।
মহিলার বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের পর দু’জনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতেই তাঁরা একটি সংসার-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, সন্তানের জন্মের পর তিনি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সংসার ও শিশুর দেখভালের দায়িত্ব নেবেন, আর স্বামী সামলাবেন পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তাঁরা একসঙ্গে বিনিয়োগ করেছেন, বাড়ি কিনেছেন, এমনকি একটি নৌকাও কিনেছেন। সন্তান জন্মানোর পর তিনি পুরোপুরি গৃহিণীর ভূমিকায় চলে যান।
এই সময়ে তিনি স্বামীকে নিঃশর্তভাবে বিশ্বাস করেছিলেন। নিজের উপার্জনের সমস্ত টাকা তিনি যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দিতেন। স্বামী তাঁকে বরাবরই জানিয়ে এসেছেন যে কর কাটার পর তাঁর মাসিক আয় মাত্র ৬,০০০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা)। সেই আয়ের মধ্যেই সংসার চালানোর যুক্তি দেখিয়ে স্বামী বরাবরই খরচে অত্যন্ত কৃপণ ছিলেন।
কিন্তু হঠাৎই পরিস্থিতি বদলে যায়। সরকারি একটি সুবিধা সংক্রান্ত ফোন কলের সময় এক আধিকারিক ভুলবশত স্বামীর প্রকৃত আয়ের কথা উল্লেখ করেন। তখনই সন্দেহ দানা বাঁধে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি স্বামীর ব্যাঙ্ক রেকর্ড পরীক্ষা করেন।
যা জানতে পারেন, তা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। স্বামীর প্রকৃত মাসিক আয় ছিল প্রায় ৮,৫০০ ডলার (প্রায় ৭.০৫ লক্ষ টাকা)। শুধু তাই নয়, তিনি প্রতি মাসে ৬,০০০ ডলারের বেশি টাকা গোপনে একটি আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দিচ্ছিলেন, যে অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব সম্পর্কে স্ত্রী সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। সেই গোপন অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই জমা ছিল ৪৫,০০০ ডলারেরও বেশি অর্থ (প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা)।
ঘটনাটি সামনে আসার পর আগের অনেক বিষয় নতুন করে চোখে পড়তে শুরু করে তাঁর। সম্প্রতি মাত্র ৩৮ ডলার (প্রায় ৩,১৫৪ টাকা) দামের দুটি স্টেক কিনতেও স্বামী রাজি হননি, এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় খরচ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। অথচ গোপনে লক্ষ লক্ষ টাকা জমিয়ে রাখার বিষয়টি জানার পর এই আচরণ তাঁকে গভীরভাবে আহত করে।
স্ত্রী মুখোমুখি প্রশ্ন করলে স্বামী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং দাবি করেন, তিনি “নিজের জন্য কিছু রাখতে চেয়েছিলেন।” কিন্তু স্বামীর এই ব্যাখ্যা স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাঁর কথায়, এই ঘটনা শুধু আর্থিক প্রতারণা নয়, বরং তাঁর মানসিক নিরাপত্তা ও দাম্পত্য বিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়েছে। বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন তিনি মাত্র চার সপ্তাহের শিশুকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন এবং পুরোপুরি স্বামীর উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল।
এই পরিস্থিতিতে আর অপেক্ষা না করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, স্বামীর মতামত উপেক্ষা করেই তিনি আবার কাজে ফিরবেন এবং শিশুকে ডে-কেয়ারে ভর্তি করবেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও এমন আর্থিক অসহায়তার মুখে পড়তে না হয়।
পুরো ঘটনাটি তিনি রেডিটে পোস্ট করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অধিকাংশ নেটিজেনই মহিলার পাশে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেছেন, বিয়েতে আর্থিক গোপনীয়তা মানে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। অনেকেই এটিকে ‘ফিনান্সিয়াল অ্যাবিউজ’ বা আর্থিক নিপীড়নের উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, দাম্পত্য সম্পর্কে আর্থিক স্বচ্ছতা কতটা জরুরি, এবং গোপন আয়ের মতো বিষয় কীভাবে সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে করে দিতে পারে।
