আজকাল ওয়েবডেস্ক: চূড়ান্ত বর্বরতা। সংখ্যালঘু বিধাবাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের অভিযোগ দু'জনের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের পর বিধবাকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। 

সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের ঝিনাইদহের
কালীগঞ্জে। নদীপাড়া এলাকায় ৪০ বছর বয়সি ওই বিধবা গণধর্ষণের অভিযোগ জানিয়েছেন দু'জনের বিরুদ্ধে। অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় নির্যাতিতা বিধবাকে স্থানীয়রাই ঝিনাইদহের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রথমে ওই বিধবা ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেননি। পরে মেডিক্যাল টেস্টে জানা যায়, তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার। 

পুলিশকে ওই বিধবা জানিয়েছেন, গত শনিবার সন্ধায় আচমকাই বাড়িতে ঢোকেন শাহিন ও তাঁর সঙ্গী হাসান। ঘরে বন্দি করে দু'জনে মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন। পাশাপাশি সেদিন তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার দাবিও করেন দুই অভিযুক্ত যুবক। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করেন তিনি। যা ঘিরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। 

এরপরই শাহিন ও তাঁর সঙ্গী হাসান বিধবাকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। শুধু তাই নয়, তাঁর চুলও কেটে নেওয়া হয়। সেই নির্যাতন ক্যামেরাবন্দি করে, ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন তাঁরা। 

নির্যাতিতা বিধবা আরও জানিয়েছেন, আড়াই বছর আগে শাহিন ও তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে  জমি-সহ একটি দোতলা বাড়ি কিনেছিলেন। তখন থেকেই শাহিনের কুনজরে পড়ে যান তিনি। তাঁকে অতীতেও একাধিকবার কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন শাহিন। তাতে রাজি হননি তিনি। এরপর থেকেই শাহিন তাঁকে হেনস্থা করতে শুরু করেন। 

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা দেশছাড়ার পর থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন দিনের পর দিন বাড়ছে ইউনুস সরকারের আমলে। দিন কয়েক আগেই ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস এবং ঢাকায় অমৃত মণ্ডলের মৃত্যু ঘটনা সেদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দীপু চন্দ্র দাসের পরে খোকন দাস। গত বুধবার রাতে উন্মত্ত জনতা প্রৌঢ় খোকনকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। শরীরে প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তাঁর। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার মারা যান বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার তিলোই গ্রামের বাসিন্দা খোকন দাস।