আজকাল ওয়েবডেস্ক: দাভোসের ঝলমলে আলোয় জমকালো স্যুট, নীতি বিষয়ক পরিভাষা এবং প্যানেল আলোচনা প্রাধান্য পায়। সেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সানগ্লাস পরে সবার থেকে আলাদা হয়ে উঠেছেন। ম্যাক্রোঁর লুক সবার মনোযোগ কেড়েছে। তিনি এবং তাঁর নীল চশমা এখন সমাজমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ফরাসি প্রেসিডেন্টকে স্টাইলিশ সানগ্লাস পরে ভাষণ দিতে দেখা যাওয়ার ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। আর একটি প্রশ্নই এখন নেটিজেনদের ভাবিয়ে তুলছে। ম্যাক্রোঁ কেন প্রেক্ষাগৃহের ভিতরে সানগ্লাস পরেছিলেন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত রয়েছে এমন একটি কক্ষে এহেন পোশাক কি কোনও সাহসী বার্তা ছিল? নাকি নিছকই ফ্যাশন?
দ্য লোকাল নামে একটি ফরাসি সংবাদপত্র জানিয়েছে, ম্যাক্রোঁ নিজেই তাঁর চশমা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন। একটি বৈঠকের শুরুতে তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, “সানগ্লাসের জন্য দুঃখিত, আমার চোখের একটি সামান্য সমস্যা হয়েছে।”
ফরাসি সংবাদমাধ্যম অনুসারে, কোনও ভাবে আঘাত পাওয়ার ফলে ম্যাক্রোঁর চোখে ফোলাভাব দেখা দিয়েছিল এবং কালশিটে পড়েছে। আপনাদের মনে থাকলে, গত ১৫ জানুয়ারি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে রক্তবর্ণ ও ফোলা চোখসহ দেখা গিয়েছিল। যাকে তিনি সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
দাভোসে ম্যাক্রোঁর সাহসী বিবৃতি সত্ত্বেও, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা ফরাসি প্রেসিডেন্টকে কটুক্তি করতে ছাড়েননি। একজন লিখেছেন, “ম্যাক্রোঁ তো টম টপ গান ম্যাভেরিকের মতো সেজেছে। চলো সবাই বাজি ধরো কে মেরেছে তাঁকে?” অপর একজন লিখেছেন, “ম্যাক্রোঁকে আবার তাঁর স্ত্রী মারলেন না কি?”
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভা প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের একটি আলপাইন রিসোর্ট শহর ডাভোসে অনুষ্ঠিত হয়। সরকার, ব্যবসা, সুশীল সমাজ এবং শিক্ষাজগতের বিশ্ব নেতারা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভায় যোগ দিতে দাভোসে একত্রিত হয়েছেন। ডাভোসের আলোচনায় অংশগ্রহণকারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, পুনর্নবিকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এবং অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু। বেশ কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীও তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে বিনিয়োগের সুযোগ প্রচারের জন্য ডব্লিউইএফ-এর বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবিস, অন্ধ্রপ্রদেশের এন. চন্দ্রবাবু নাইডু, তেলেঙ্গানার এ. রেবন্ত রেড্ডি, মধ্যপ্রদেশের মোহন যাদব, ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন এবং আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
