ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থা রিলায়েন্স শেয়ার বুধবার সকালে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় তেল শোধনাগার প্রকল্পে কোম্পানির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের খবর সামনে আসতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
2
11
বুধবার সকালেই রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ১,৪২৭.২০ টাকা, যা আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস ১,৪০৮.৮০ টাকার তুলনায় ১৮.৪০ টাকা বা প্রায় ১.৩১ শতাংশ বেশি। দিনের শুরুতে শেয়ারটি ১,৪২৪.৯০ টাকায় খোলে এবং লেনদেন চলাকালীন সর্বোচ্চ ১,৪৩৪ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়।
3
11
এই উত্থানের পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বড় ঘোষণা। তিনি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তেল শোধনাগার প্রকল্পের কথা জানান, যা তিনি মার্কিন জ্বালানি কাঠামোর জন্য “ঐতিহাসিক” বিনিয়োগ বলে বর্ণনা করেছেন।
4
11
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ভারতীয় অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষভাবে ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি কোম্পানি রিলায়েন্সের কথাও উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যের পর থেকেই বাজারে জল্পনা শুরু হয় যে প্রকল্পটিতে রিলায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।
5
11
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই তেল শোধনাগারটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিল শহরে নির্মিত হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত প্রথম বড় নতুন তেল শোধনাগার।
6
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শোধনাগারটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেল তেল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য ব্যবহৃত হবে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিফাইনিং সক্ষমতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
7
11
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এই সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কারণ এর মাধ্যমে রিলায়েন্সের রিফাইনিং ব্যবসা আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতে কোম্পানির প্রভাব বাড়তে পারে।
8
11
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রিলায়েন্স ইতিমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স পরিচালনা করে। গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত এই বিশাল শোধনাগার কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং সেখান থেকে উৎপাদিত জ্বালানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।
9
11
বিশ্লেষকদের মতে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রকল্পে রিলায়েন্সের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, তাহলে কোম্পানির ‘অয়েল-টু-কেমিক্যালস’ ব্যবসার জন্য এটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিতি বাড়লে কোম্পানির আয় এবং কৌশলগত অবস্থান উভয়ই শক্তিশালী হতে পারে।
10
11
রিলায়েন্স ভারতের প্রধান সূচকগুলোর অন্যতম ভারী ওজনের শেয়ার হওয়ায় এর দাম বাড়লে বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে বুধবার সকালেই শেয়ারটির উত্থান বৃহত্তর বাজারকেও কিছুটা সমর্থন দিয়েছে।
11
11
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পটির আকার, বিনিয়োগ কাঠামো এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে এলে তবেই বোঝা যাবে এটি দীর্ঘমেয়াদে রিলায়েন্সের আয় এবং বিশ্বের জ্বালানিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।