আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে একটি আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হয় যেখানে দাবী করা হয় কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইন ঘনিষ্ঠ সময় কাটাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে। যার প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের পোডিয়ামে যখন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এসে দাঁড়ালেন, তখন উপস্থিত কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে পরের কয়েক মিনিট বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঠিক এক সপ্তাহ আগের দেওয়া ভাষণের রেশ কাটতে না কাটতেই মেলানিয়া এমন এক বিষয়ে মুখ খুললেন, যা পুরো প্রশাসনকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

আমেরিকার জাতীয় পতাকায় ঘেরা পোডিয়াম থেকে মেলানিয়ার প্রথম বাক্যটিই ছিল এক তীব্র চাবুকের মতো— "কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইনের  সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে যেসব মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে, আজই তার অবসান হওয়া দরকার।" এই একটি বাক্যের মাধ্যমে তিনি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এলেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বরাবরই অস্বস্তির কারণ।

মার্কিন কেবল চ্যানেলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের সংঘাতের খবর বাদ দিয়ে মেলানিয়ার এই নজিরবিহীন ভাষণের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অত্যন্ত সংরক্ষিত এবং কম প্রচারমুখী হিসেবে পরিচিত মেলানিয়া ট্রাম্প এদিন একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এপস্টেইন বা ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তাঁর কোনও  ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না এবং এপস্টেইনের  মাধ্যমেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয়—এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল তাঁর পরবর্তী দাবি; তিনি এপস্টেইনের  শিকার হওয়া মহিলাদের জন্য একটি জনসমক্ষে ‘কংগ্রেসনাল হেয়ারিং’ বা শুনানির আহ্বান জানান।

মেলানিয়ার এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেন তিনি হঠাৎ করে এই পুরনো গুজব নিয়ে জনসমক্ষে মুখ খুললেন? তদন্তকারী সাংবাদিক ভিকি ওয়ার্ডের মতে, মেলানিয়ার এই টাইমিং অত্যন্ত রহস্যজনক। এপস্টেইন ফাইলসে ম্যাক্সওয়েলকে পাঠানো একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ইমেল ছাড়া মেলানিয়ার তেমন কোনও  নাম নেই। তাই কেন তিনি আগ বাড়িয়ে এই বিতর্কে জড়ালেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও দাবি করেছেন যে, মেলানিয়া এমন কোনও  ভাষণ দেবেন তা তিনি জানতেন না।

এপস্টেইনের শিকার হওয়া মহিলাদের মধ্যে এই ভাষণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশ এবং ভার্জিনিয়া রবার্টস জিউফ্রে-র পরিবার মনে করছে, মেলানিয়া আসলে সত্য উদঘাটনের বদলে দায় এড়িয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। তবে লিসা ফিলিপসের মতো কোনও কোনও  ভুক্তভোগী একে একটি ‘সাহসী পদক্ষেপ’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন এবং ফার্স্ট লেডিকে তাঁর কথা কাজে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেলানিয়ার এই অবস্থান হোয়াইট হাউসের ভেতরেই এক বড় ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। লেখক ব্যারি লেভিন বলছেন, ট্রাম্প যেখানে বরাবরই ভুক্তভোগীদের প্রতি ঠান্ডা মনোভাব দেখিয়েছেন এবং এই ফাইলগুলোকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, সেখানে মেলানিয়া সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন। ডেমোক্র্যাটরা একে একটি ‘রাজনৈতিক উপহার’ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, মেলানিয়া যদি সত্যিই বিচার চান, তবে তাঁর উচিত স্বামীকে বলে এপস্টেইন সংক্রান্ত সব গোপন ফাইল জনসমক্ষে আনা।

সব মিলিয়ে, হোয়াইট হাউসের যে সংকটটি প্রশাসন ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল, মেলানিয়া ট্রাম্পের এই একটি ভাষণ তাতে নতুন করে আগুনের ঘি ঢেলে দিল। ট্রাম্প এখন আর এই কেলেঙ্কারিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিতে পারছেন না, কারণ এবারের আক্রমণটি এসেছে তাঁর ঘরের ভেতর থেকেই।