আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলার মারাত্মক 'বুন্দিবুগিও' স্ট্রেনের প্রাদুর্ভাব রুখতে এ বার ময়দানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বা হু প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস। কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কেবল জেনেভার আরামদায়ক অফিসে বসে নির্দেশ দেওয়া সহজ। কিন্তু এই মহামারি রুখতে স্বাস্থ্যকর্মীদের স্থানীয় মানুষের সাথে মিলে মাটিতে নেমে কাজ করতে হবে। তিনি স্থানীয় অধিবাসীদেরও নিজেদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। হু প্রধানের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও এই প্রাদুর্ভাব রুখে দেওয়া সম্ভব। তবে সংক্রমণ যেভাবে ছড়াচ্ছে, তার তুলনায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর গতি এখনও কিছুটা কম।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, বিশ্বে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি কঙ্গোয়। সেখানে ইতিমধ্যেই ১২৫ জন নিশ্চিত আক্রান্তের খবর মিলেছে। যার মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও ৯০৬ জন সন্দেহভাজন আক্রান্ত এবং ২২৩ জন সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ৯ জন আক্রান্ত এবং ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সেদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তবে ইতিবাচক দিক হল, এই প্রাদুর্ভাবে প্রথম একজন নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। আরও ৫ জন আক্রান্ত সুস্থ হওয়ার পথে বলে জানিয়েছে হু-র জরুরি কর্মসূচির গবেষক আনাইস লেগ্যান্ড। এই ভাইরাসে গড় মৃত্যুর হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ।
ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের রুয়ামপার এবং বুনিয়া জেনারেল হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঠানো চিকিৎসা সামগ্রী এসে পৌঁছেছে। আগামী কয়েকদিনে আরও ত্রাণ আসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটে আরও ৮০ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের ঘোষণা করেছে, যার ফলে তাদের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১২ মিলিয়ন ডলারেও বেশি। হাসপাতালগুলোতে এখন সুরক্ষাকবচ পরিহিত স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো হলেও, দিনরাত নতুন রোগী আসায় চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি রয়েই গেছে।
আফ্রিকা সিডিসি প্রধান জিন কাসেয়া আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, "চলতি বছরের শেষের মধ্যেই আমরা বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের জন্য ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিশ্চিত করব।" এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় ভূরাজনীতি এবং সামাজিক অবিশ্বাস।
ইবোলার কারণে মৃতদেহ সৎকারের কড়া সরকারি নিয়মের সাথে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির সংঘাত ঘটছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই অন্তত তিনটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। ইতুরি প্রদেশে ইসলামিক স্টেট অনুগামী এডিএফ রেবেল গ্রুপ এবং জাতিগত মিলিশিয়াদের হিংসাত্মক কার্যকলাপের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্তদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। এছাড়া এম২৩ বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বিদ্রোহীরা নিজেরাও ২ জন আক্রান্তের কথা স্বীকার করেছে।
উগান্ডা ইতিমধ্যেই কঙ্গোর সাথে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস এই ধরণের কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বলেছেন, "ভ্রমণ পুরোপুরি বন্ধ না করেও আক্রান্তদের এবং কর্মীদের ব্যবস্থাপনা করার বৈজ্ঞানিক উপায় রয়েছে।"
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদান সফরকারী অ-মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়া ইবোলা আক্রান্ত মার্কিন স্বাস্থ্যকর্মীদের দেশে ফিরিয়ে না এনে কেনিয়ায় রাখার একটি মার্কিন পরিকল্পনা কেনিয়ার একটি আদালত স্থগিত করে দিয়েছে। বর্তমানে মার্কিন সিডিসির ২৩০ জনেরও বেশি কর্মী এই ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করছেন। তবে আক্রান্ত হলে মার্কিন সরকার তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে সঠিক চিকিৎসা করবে কি না, তা নিয়ে খোদ কর্মীদের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয়েছে।















