আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই। নেই শান্তির লক্ষণ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য তেমনটাই। সূত্রের খবর, সোমবারেও তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে তেহরান। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিয়োগের পর তেহরান ইজরায়েলের দিকে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে থেমে নেই ইজরায়েলও। তারা জানিয়েছে, প্রতিক্রিয়ায়, ইজরায়েলি সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড কেন্দ্র-সহ ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে দোহাতেও। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্য, দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরও তীব্র হয়েছে স্কেহানকার পরিস্থিতি। অন্যদিকে কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে হামলার সময় ছবি এবং "বিভ্রান্তিকর তথ্য" শেয়ার করার জন্য ৩১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লেবাননে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এমন সতর্কবার্তার পরে বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে ইজরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয় বলে তথ্য।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ, ইজরায়েল দক্ষিণ লেবাননের আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে। এর আগে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা নেই। আর হামলা করবে না ইরান। এমনটাই শনিবার জানিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই দুবাই, কুয়েতে একের পর এক হামলা চলে। রবিবার কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। শনিবার দুবাই বিমানবন্দরের রবিবার কার্যত জ্বলতে দেখা যায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রবিবার ভোরে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-আতওয়ান জানিয়েছেন, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক লক্ষ্য করেই হামলা করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই যাত্রীদের এবং ক্রু মেম্বারদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমস্ত বিমানের উড়ান ও অবতরণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। অনির্দিষ্টকালের জন্য দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা করে আমিরশাহির বিমান সংস্থা এমিরেটস। যদিও এর খানিকক্ষণ পরেই বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে শুরু হয়।
আমিরশাহী প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বায়ুসেনা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। গোটা এলাকায় আঁটসাঁট নিরাপত্তা রয়েছে। ইরানের ছোড়া ১৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১২১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। একটি মিসাইল সমুদ্রে আছড়েপড়েছে। অন্যদিকে ১২১টি ড্রোনের মধ্যে ১১৯টিকে ধ্বংস করেছেন সেনা জওয়ানরা।
সূত্রের খবর, ইরানের হামলার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৭টি ড্রোন আটক করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে যে সোমবার নতুন করে হামলার সময় তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৭টি ইউএভি আটক করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, মোট ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শণাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি সমুদ্রে পড়েছে, এবং ১৮টি ড্রোন সনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি দেশটির ভূখণ্ডের মধ্যে পড়েছে।
অন্যদিকে তথ্য, ন্যাটো তুরস্কের আকাশসীমায় ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ইরান থেকে উৎক্ষেপিত এবং তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশকারী একটি ব্যালিস্টিক গোলাবারুদ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ফাঁকা অঞ্চলে পড়ে্ছে, ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
