আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। স্বৈরাচারের হাত থেকে বাঁচতে বহু মানুষই প্রায়শই চেষ্টা করেন বর্ডার টপকানোর।

তবে কোভিডের ফলে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা আরও কঠোর হয়ে যাওয়ায় বর্ডার পেরিয়ে পালানো অতটা সহজ হয় না এখন আর। কিন্তু সেই কড়াকড়ির মধ্যেও ঝড়ের রাতে উত্তর কোরিয়া পেরিয়ে পালাল এক পরিবার।

রীতিমত আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এই ঘটনা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কিম নামের এক ব্যক্তি নিজের পরিবার নিয়ে ২০২৩ সালে গোপনে উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যান।

তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন এক গর্ভবতী মহিলা, বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে ছোট ছোট শিশুরা এবং কিমের মৃত বাবার অস্থিও। জানা গিয়েছে, যাতে ধরা না পড়েন সেজন্য রাতের অন্ধকারে, ঝড়ের মধ্যে, একটা ছোট নৌকায় করে তাঁরা সমুদ্র পথে পাড়ি দিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে।

এই ঘটনাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এরকম ঝুঁকি নিয়ে একটা গোটা পরিবার উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়া কীভাবে গেলেন সেই নিয়েই আলোচনা চলছে।

জানা গিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করতে কিমের সময় লেগেছিল বেশ কয়েক মাস। চীন সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা বহু মানুষ করতেন। ফলে উত্তর কোরিয়া চীন সীমান্তে পাহারা আরও কড়া করে দিয়েছে।

ফলে, সমুদ্র মারফতই যে পালাতে হবে সেরকমই স্থির করেছিলেন কিম। কিন্তু, এই সমুদ্রপথেও ঝুঁকি ছিল প্রচণ্ড। জানা গিয়েছে, কিম মূলত উপকূলবর্তী এলাকায় থাকতেন। তাই নিয়মিত সেনা টহল ও পাহারার গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখতেন তিনি।

কখন কোন সময়ে কোন জায়গায় সেনাদের পাহারা হালকা থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেছিলেন। তবে শুধু নিখুঁত পরিকল্পনা নয়, কিমের ভাগ্যও সঙ্গ দিয়েছিল। সোনায় সোহাগা হয়ে কাজ করেছিল সেদিনের প্রবল ঝড়-বৃষ্টি আর তার প্রভাবে উত্তাল সমুদ্র।

কিমের ধারণা ছিল খারাপ আবহাওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি কিছুটা কম থাকবে। তবে উপকূলে পৌঁছনোর আগে কিমদের পেরোতে হয়েছিল মাইন বিছিয়ে রাখা মাঠ।

রাতের অন্ধকারে প্রায় ভাগ্যের সহায় হয়েই নিজের সন্তানদের কোলে তুলে নিয়ে তাঁরা উপকূলে। সার্চ লাইট আর সেনাদের টহল এড়িয়ে ঝড়ের মধ্যেই কিমরা সমুদ্রের তীরে পৌঁছন।

প্রবল ঢেউয়ের মধ্যেই শুরু হয় সমুদ্রযাত্রা। বিপজ্জনক পাথুরে এলাকা পার হওয়ার পর নৌকার গতি বাড়ান তিনি। কিন্তু খোলা সমুদ্রে তাঁরা সহজেই নজরে পড়েছিলেন। একটি জাহাজ তাঁদের ধাওয়া করে।

কিন্তু কোনও মতে পালিয়ে বেঁচে যায় কিমের পরিবার। প্রায় দু’ঘণ্টা সমুদ্রে থাকার পর তাঁরা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি দ্বীপে পৌঁছন। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে।

পরবর্তীতে নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ করে তাঁদের এই নতুন জীবনের জন্য পুনর্বাসন দেওয়া হয়। নতুন দেশে, নতুন শহরে মানিয়ে নেওয়ার পর কিম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘এইভাবে পালানোর পরিকল্পনা একদিনে হয়নি। প্রায় কয়েক বছর ধরেই আমি পালনোর পরিকল্পনা করছিলাম। কোথায় মাইন পাতা থাকতে পারে, কোথায় সমুদ্রে সেনা মোতায়েন কম থাকে, কখন ফাঁকা পেতে পারি, সমুদ্রের কোন পথে গেলে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছাতে পারব, এই সব বেশ কয়েক বছরের পরিকল্পনার ফল।’