'তরল ধ্যান' থেকে 'তেঁতুল ভাত', সাত মহাপ্রসাদে মিশে বহুযুগের ঐতিহ্য
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৫ মে ২০২৬ ০৯ : ৪৮
শেয়ার করুন
1
8
ভারতের মন্দিরে শুধু দেবতার আশীর্বাদই মেলে না, মেলে এমন কিছু খাবারের স্বাদ, যা মুখে লেগে থাকে৷ এই সব খাবার শত শত বছর ধরে পরিবেশন করা হয় মন্দিরগুলিতে৷ এই সব মন্দিরের প্রসাদ এক ঐতিহ্যের বহমান ধারা। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই সাতটি মহাপ্রসাদের কথা৷
2
8
১. জগন্নাথের ‘মহাপ্রসাদ’ ও ৫৬ ভোগ (পুরী, ওড়িশা)
দ্বাদশ শতাব্দীর জগন্নাথ মন্দিরে প্রতিদিন তৈরি হয় ৫৬ রকমের পদ— ভাত, ডাল, তরকারি, পিঠে, ক্ষীর, রসগোল্লা, মালপোয়া— সব মিলিয়ে এক বিশাল ভোজ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই রান্নাঘরে দিনে প্রায় ২৫,০০০ ভক্তের খাবার তৈরি হয়; উৎসবের সময় সংখ্যা পৌঁছায় ১০ লাখে। ‘বৈষ্ণবাগ্নি’ নামে পরিচিত এই রান্নাঘরের আগুন শত শত বছর ধরে কখনো নেভেনি। সাত মাটির হাঁড়ি একের উপর এক বসিয়ে রান্না হয়— উপরের পাত্রের ভাত আগে সিদ্ধ হয়, নিচেরটা পরে— এ এক রহস্য, যা বিজ্ঞান আজও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি।
3
8
২. ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী তিরুপতি লাড্ডু ( অন্ধ্রপ্রদেশ)— ছোলার ডালের ময়দা, ঘি, চিনি, কাজু-কিসমিসে তৈরি। প্রতিদিন ২০০ জনের বেশি বাবুর্চি তৈরি করেন প্রায় ৩.৫ লক্ষ লাড্ডু। ১৯৪০ সাল থেকে এর বর্তমান রূপ; এর আগে ছিল ‘বুঁদি’। এই লাড্ডু পেয়েছে GI ট্যাগের সুরক্ষা— ভারতের একমাত্র মন্দিরের প্রসাদে রয়েছে এই মর্যাদা।
4
8
গুরুবায়ুরের পাল-পায়সম (কেরালা)
ভগবান কৃষ্ণের প্রিয় বলে কথিত— পাল-পায়সম, ঘন দুধ, চাল ও চিনির মিষ্টি পদ। কেরালার গুরুবায়ুর মন্দিরে এর প্রস্তুত প্রণালী একদম অপরিবর্তিত। নরম, ক্রিমি ঘ্রাণে অমৃততুল্য— ভক্তরা একে ‘তরল ধ্যান’ বলেন।
5
8
শ্রীরঙ্গমের পুলিয়োদারে (তামিলনাড়ু)
দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রাচীন মন্দির শ্রীরঙ্গমে তৈরি হয় তেঁতুল-ভাত (পুলিয়োদারে)— তেঁতুল, ভাজা মশলা, কারিপাতা, ডাল ও চিনাবাদামের অপূর্ব মেলবন্ধন।
6
8
পুরীর ‘খাজা’: ময়দা ও চিনির স্তরে স্তরে বিন্যাসে গড়ে ওঠা কুড়মুড়ে, নরম এই মিষ্টি। প্রাচীনকালে বণিকরা বাণিজ্য করতে গেলে এই খাজা নিয়ে যেতেন।
7
8
সিদ্ধিবিনায়কের মোদক (মুম্বই)
গণেশের সবচেয়ে প্রিয় খাবার— মোদক। মুম্বইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে চালের আটা, নারকেল ও গুড় দিয়ে তৈরি হয় ভাপা মোদক। গণেশ-চতুর্থীতে কোটি কোটি ভক্ত এই প্রসাদের জন্য অপেক্ষা করেন।
8
8
স্বর্ণমন্দিরের ‘লঙ্গর’ (অমৃতসর)
শিখ ঐতিহ্যের ‘লঙ্গর’ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কমিউনিটি কিচেন। দিনে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ বিনামূল্যে খাবার পান। ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সকলে প্রসাদ পান৷ চাপাটি, ডাল, সবজি, ক্ষীর সবই বানানো হয় স্বেচ্ছাসেবকদের পরিশ্রমে।