আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে বারবার বাণিজ্যিক জাহাজ ও ক্রু-সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, ‘ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ক্রু-সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চলতে থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, জাহাজে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। হামলার পর ওমান প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকাজ চালায়। সেই জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদও জানিয়েছে ভারত।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সেই পরিস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ করিডর হিসেবে পরিচিত এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ-চলাচল এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান ফের স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।

বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা, নিরীহ ক্রু-সদস্যদের জীবন বিপন্ন করা কিংবা আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই প্রতিক্রিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজগুলির নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপসাগর ও সংলগ্ন জলসীমায় হামলা, জাহাজ আটকানো এবং নিরাপত্তা সতর্কতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম। কারণ, বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই যাতায়াত করে।

ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি বা জাহাজ চলাচলে কোনও বিঘ্ন তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম, শিপিং বিমার খরচ এবং বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।