আজকাল ওয়েবডেস্ক: তেহরানে আক্রমণ করল ইজরায়েল। আকাশপথে, তেহরানে অবস্থিত পাকিস্তানের দূতাবাস সংলগ্ন এলাকায় চলে এই আক্রমণ। এই ঘটনা ঘিরে পাকিস্তানে ছড়িয়েছে উত্তেজনা। ইজরায়েলকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সাফ কথা, ইরান হোক বা অন্য কোথাও, পাকিস্তানের দিকে সংঘর্ষের আঁচ এসে পড়লে ইসলামাবাদ চুপ থাকবে না। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের কথায়, ‘ইজরায়েল যেন পাকিস্তানকে কাতারের সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলে। আমসদের কোনও কূটনীতিকের ক্ষতি হলেও, তার জবাব তোমরা পাবে’। 

 

গত বৃহস্পতিবার ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণ চলে তেহরানে। সেই আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের বাসস্থানও। তার জেরেই এই হুমকি। সূত্রের দাবি এই আক্রমণে পাকিস্তানের কূটনীতিক বা সরকারি কোনও আধিকারিকের ক্ষতি হয়নি। তাঁদের বাসস্থানেরও কোনও ক্ষতি হয়নি। কিন্তু আশেপাশে ঘটে গিয়েছে নিদারুণ ধ্বংসলীলা। পড়েছে পাকিস্তানের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। তাই হুঁশিয়ারি ইজরায়েলকে। 

 

পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ পা দিল ২৮ দিনে। আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরানের এই সংঘর্ষে আকাশপথে আক্রমণ হচ্ছে মুলত তেহরান, কাশান আর আবাদান; এই শহরাঞ্চলে। এই উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান প্রস্তাব দেয়, আমেরিকা ও ইরান যদি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই সংঘর্ষে ইতি টানতে চায়, তাহলে ইসলামাবাদ সেই আলোচনাসভার আয়োজন করতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, পাকিস্তান দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখতে চাইছে। তাই মধ্যস্থতা করছে। 

 

এর মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করে জানান, ইরানকে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের কাছে খুলে দেওয়ার জন্য যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তা আরও বাড়ান হচ্ছে। এই প্রণালী খুলে দিলে তেহরান নিজেদের জ্বালানি পরিকাঠামোকে আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। নিজের সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আলোচনা চলছে। এবং ভাল দিকে এগোচ্ছে। ভুয়ো খবরকে পাত্তা না দিয়েই আলোচনা নিজের গতিতে চলছে’। পাশাপাশি তিনি প্রণালী খোলার নতুন সময়সীমা হিসাবে ৬ এপ্রিল তারিখটিকে ঘোষনা করেন। 

 

সংঘর্ষের জেরে ইরান বন্ধ করে রেখেছে হরমুজ প্রণালী। এই প্রণালী দিয়ে রপ্তানি হয় বিশ্বের জ্বালানির সিংহভাগ। কিন্তু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরান সে পথ বন্ধ করায় বিপাকে বিশ্ববাসী। বাড়ছে তেলের দাম। তাই আমেরিকার দাবি, প্রণালী উন্মুক্ত হলে তেহরান বাঁচবে আক্রমণের হাত থেকে। নাহলে সমস্যা বাড়তে পারে। 

কিন্তু ইরান এখনও এই হরমুজ প্রণালী বন্ধু দেশগুলির জন্যই শুধু খুলে রেখেছে। পাশাপাশি ইরানের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও রকমের আলোচনায় তাঁরা অংশ নিচ্ছেন না।