আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা তার দুই বিশ্বস্ত মিত্রকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছে, যার থেকে বিশ্বের পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক চিত্র নির্ধারিত হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে প্রশ্নটি তাঁর দুই মিত্রকে জিজ্ঞাসা করেছে তা হল, তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকা যদি চীনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় তাহলে এই দুই সহযোগীর ভূমিকা কী হবে? এই দু'টি দেশই কোয়াড জোটের সদস্য। এ জোটে রয়েছে ভারতও।

প্রশ্নটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্ব ইতিমধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজরায়েল-হামাস সংঘাত এবং ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা প্রত্যক্ষ করছে। তার মধ্যেই আমেরিকা কেন তার দুই মিত্রকে এমন প্রশ্ন করেছে? তাহলে কী তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকা এবং চীনের মধ্যে একটি সশস্ত্র সংঘাত সময়ের অপেক্ষা মাত্র?

তাইওয়ান ইস্যুতে চীন এবং আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধে রয়েছে। ওয়াশিংটন সর্বদা নিজেকে দ্বীপরাষ্ট্রটির একমাত্র ত্রাণকর্তা হিসেবে নিজেদের চিত্রিত করে আসছে। তাইওয়ান সম্পর্ক আইন (১৯৭৯) এর অধীনে, আমেরিকা তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সহায়তা দিয়ে থাকে।

আমেরিকা তার দুই বন্ধর কাছ থেকে কী দাবি করে?
তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন নীতি "কৌশলগত অস্পষ্টতা"র। অর্থাৎ, তাইওয়ানের উপর আক্রমণের ক্ষেত্রে সামরিকভাবে আমেরিকা হস্তক্ষেপ করবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। চীনকে থামাতে এবং উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আমেরিকা তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি, কোয়াড-এর মতো জোটের মাধ্যমে, আমেরিকা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু, এখন আমেরিকা সোচ্চার হয়ে উঠছে।

ফিনান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ কূটনীতিক এলব্রিজ কলবি বলেছেন যে- এই প্রশ্নটি চীনের জন্যও একটি বার্তা। এতে বলা হয়েছে যে, আমেরিকা এই দেশগুলিকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির দাবি করছে, যাতে প্রতিরোধের কৌশল কার্যকর করা যায়। তাইওয়ান সংঘাতে, বিশেষ করে AUKUS (Trilateral security partnership between Australia, the United Kingdom, and the United States) এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপটে, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সামরিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। AUKUS হল অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব।

আমেরিকার প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান কী বলে?
অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান উভয়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদার, তবে উভয় দেশের জনগণ এবং সরকার একটি বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক। এই কারণে, তারা এই বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া এড়িয়ে চলছে এবং এই আঞ্চলিকভাবে শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে কথা বলছে।

তবে, আমেরিকার এই দাবি উভয় দেশকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে, কারণ তারা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। অস্ট্রেলিয়া "অনুমানিক প্রশ্নের" উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, অন্যদিকে জাপানও বলেছে যে- ভবিষ্যতের পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেন চীনে?
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ চীন সফরে আছেন। তিনি বলেছেন যে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম রপ্তানি অংশীদার চীন এবং বেজিং-ও এই বাণিজ্য বন্ধুত্ব-কে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ান ইস্যু বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সামরিক 'ফ্ল্যাশপয়েন্ট', যেখানে প্রচলিত বা পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হয়। যদিও বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করেন যে, যুদ্ধের সম্ভাবনা অবশ্যই বেড়েছে, তবে শেষপর্যন্ত তার সম্ভাবনা কম। চীন এবং আমেরিকা উভয়ই জানে যে, তাইওয়ানের উপর যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি এবং স্থিতিশীলতার জন্য বিপর্যয়কর হবে।