আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক আবারও ইতিহাস গড়েছেন। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে দুর্দান্ত তালিকাভুক্তির পর তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৫ লক্ষ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হওয়ার নজির গড়েছেন তিনি।
মার্কিন শেয়ারবাজার ন্যাসডাকে স্পেসএক্সের আইপিও প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দামে তালিকাভুক্ত হয়। বাজারে আত্মপ্রকাশের পর সংস্থাটির মোট বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের প্রায় ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার।
মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির গতি নজিরবিহীন। ২০১১ সালে প্রথমবার বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পর টেসলা এবং স্পেসএক্সের ধারাবাহিক সাফল্য তাঁর সম্পদকে কয়েকশো গুণ বাড়িয়ে দেয়। সেই যাত্রাপথেই এখন তিনি ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক।
পৃথিবীর প্রত্যেককে ৮,০০০ টাকা দিলেও থাকবেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি?
ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ কতটা বিশাল, তা বোঝাতে একটি আকর্ষণীয় হিসাব সামনে এসেছে। পৃথিবীর জনসংখ্যা যদি প্রায় ৮০০ কোটি ধরা হয়, তাহলে তিনি প্রত্যেক মানুষকে প্রায় ৮,০০০ টাকা করে উপহার দিতে পারেন।
এই বিপুল অর্থ বিতরণ করতে তাঁর খরচ হবে প্রায় ৬৪ লক্ষ কোটি টাকা বা ৮০০ বিলিয়ন ডলার। তারপরও তাঁর হাতে থেকে যাবে প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ। অর্থাৎ এত বড় অঙ্কের অর্থ বিলিয়ে দেওয়ার পরও তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবেই থাকতে পারেন।
তুলনায় বিশ্বের দ্বিতীয় ধনীতম ব্যক্তি ল্যারি পেজ-এর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা, যা মাস্কের সম্পদের তুলনায় অনেকটাই কম।
স্পেসএক্স এখন সম্পদের মূল উৎস
একসময় ইলন মাস্কের সম্পদের বড় অংশ এসেছিল টেসলার শেয়ার থেকে। তবে বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশই স্পেসএক্সের সঙ্গে যুক্ত। সংস্থার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্ক ২০২৫ সালে ১১.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা সংস্থার মূল্যায়ন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়া মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থার সঙ্গে বড় চুক্তি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থাও আরও বেড়েছে। ফলে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর্মীরাও হলেন কোটিপতি
স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুফল শুধু ইলন মাস্কই পাননি। সংস্থার ৪,৪০০-রও বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মীও লাভবান হয়েছেন। কর্মীদের পারিশ্রমিক ও ইনসেনটিভ হিসেবে পাওয়া শেয়ারের মূল্য বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের অনেকেই রাতারাতি মিলিয়নিয়ার হয়ে গিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলন মাস্কের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের বহু দেশের মোট জিডিপির থেকেও বেশি, যা তাঁর আর্থিক সাম্রাজ্যের বিশালতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।















