আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড়সড় ধাক্কা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপানো অতিরিক্ত আমদানিশুল্ক বা ‘ট্যারিফ’ বাতিল করে দিল সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ঢালাও শুল্ক বসিয়ে আসলে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। জরুরি অবস্থার জন্য তোলা থাকা একটি আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এই কর চাপিয়েছিলেন, যা একেবারেই নিয়মবিরুদ্ধ।

১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করে ট্রাম্প যে শুল্ক নীতি চালু করেছিলেন, ৬-৩ বিচারপতির রায়ে তাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের ওপর কর বা শুল্ক বসানোর অধিকার একমাত্র কংগ্রেসের (মার্কিন সংসদ)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংবিধান নির্মাতারা কর আদায়ের চাবিকাঠি সংসদের হাতেই দিয়ে গিয়েছেন। শান্তিকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছামতো এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন না। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যদি কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে এই বিশেষ ক্ষমতা দিতে চাইত, তবে আইনে তার পরিষ্কার উল্লেখ থাকত।

এদিকে আদালতের রায়কেই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিন উদারপন্থী বিচারপতির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তিন রক্ষণশীল বিচারপতিও। তবে ব্রেট কাভানা, ক্লারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো- এই তিন রক্ষণশীল বিচারপতি ট্রাম্পের পক্ষেই সওয়াল করেছেন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দেশের বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে বিপুল শুল্ক বসানো প্রয়োজন। একে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর কর চাপান তিনি। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, মার্কিন অর্থনীতিকে বাঁচাতে এই কড়া পদক্ষেপ ছাড়া গতি নেই।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কিন অঙ্গরাজ্য। তাদের অভিযোগ ছিল, সংসদীয় ক্ষমতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করছেন। সরকারি তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই শুল্ক বাবদ প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার আদায় করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন আদালত একে অবৈধ ঘোষণা করায় কস্টকো-র মতো বড় বড় সংস্থা সেই টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে আইনি লড়াই শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধাক্কা ট্রাম্পের আর্থিক নীতিকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিল। তবে হাল ছাড়তে নারাজ প্রশাসন। অন্য কোনও আইনি পথে ফের এই শুল্ক ফেরানো যায় কি না, তার পথ খুঁজছে হোয়াইট হাউস।