আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মধ্য এশিয়াতে চলা সংঘাত থামাতে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন, যার লক্ষ্য যুদ্ধের ইতি টানা এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। এই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে।


মার্কিন প্রশাসন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অন্তত এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দিয়েছে, যাতে শান্তি আলোচনার জন্য সময় পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই প্রস্তাবটি সরাসরি নয়, বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদ ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে।


প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির মধ্যে রয়েছে—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সামরিক পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা। এর বদলে আমেরিকা কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি সীমিত অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অনুমতি দিতে পারে। এমনকি ইরানের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে কিছু অর্থনৈতিক সহযোগিতার কথাও ভাবা হচ্ছে।


তবে এই প্রস্তাব ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলের কর্মকর্তারা, যারা এতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন, তারা এই হঠাৎ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে বিস্মিত হয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইতিমধ্যেই মধ্য এশিয়াতে অতিরিক্ত প্রায় ১,০০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা এই মুহূর্তে সেখানে থাকা প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে।


এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় শাহবাজ শরিফের একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে পাকিস্তান এই সংঘাতের অবসানের আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
তবে কূটনীতিকদের মতে, এই ১৫ দফা প্রস্তাব পুরোপুরি নতুন নয়। এর অনেকটাই ২০২৫ সালের মে মাসে হওয়া পারমাণবিক আলোচনার সময় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে তৈরি। সেই সময় ইজরায়েলের হামলার পর আলোচনা ভেঙে যায়।


বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনও গোপন আলোচনায় নেই এবং আমেরিকার এই পদক্ষেপকে তারা সন্দেহের চোখে দেখছে। এমনকি তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তারা পারস্য উপসাগরে মাইন পেতে দিতে পারে।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এই প্রস্তাব শান্তির পথে একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ, তবুও দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে এই আলোচনা কতটা সফল হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।