আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক বছর আগে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় ভারতের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের ক্ষত এখনো শুকোয়নি, কিন্তু তার মধ্যেই ফের হুঙ্কার ছাড়লেন পাকিস্তানের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ তথা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। রবিবার রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের নাম না করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও ‘দুঃসাহস’ দেখালে তার পরিণাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ, সুদূরপ্রসারী এবং যন্ত্রণাদায়ক।
ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে মুনিরের পাশে উপস্থিত ছিলেন সে দেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু এবং নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ। তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে মুনির দাবি করেন, পাকিস্তানের শত্রুদের জেনে রাখা উচিত যে কোনও রকমের আগ্রাসন চালালে যুদ্ধের প্রভাব আর সীমিত গণ্ডিতে থাকবে না। তিনি গত বছরের মে মাসের সংঘাতকে পাকিস্তানের জন্য ‘গর্বের দিন’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, ৬ থেকে ১০ মে-র মধ্যে ভারতের তথাকথিত সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের প্রচেষ্টাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জাতীয় সংহতি দিয়ে রুখে দিয়েছে।
মুনিরের দাবি, এই লড়াই কেবল দুটি দেশের বা সামরিক বাহিনীর চিরাচরিত যুদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল দুটি ‘আদর্শের’ লড়াই যেখানে শেষ পর্যন্ত ‘সত্যের’ জয় হয়েছে। ২০০১, ২০০৮, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালের বিভিন্ন ভারতীয় অভিযানকে ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বা সাজানো ঘটনা বলে তোপ দেগে তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বরাবরই মিথ্যা অভিযোগ এবং যুদ্ধাংদেহী মনোভাবের আড়ালে পাকিস্তানের ওপর অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
উল্লেখ্য, সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মুনির বারবার ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন। গত ডিসেম্বরেও তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে ভারত যেন কোনও বিভ্রমে না থাকে। এমনকি ভারতের বাঁধ ও পরিকাঠামো ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। গত আগস্টে আমেরিকায় প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক সভায় তিনি চরম ঔদ্ধত্যের সাথে বলেছিলেন, “আমরা একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। আমরা যদি তলিয়ে যাই, তবে বিশ্বের অর্ধেককেও সাথে নিয়ে মরব।”
তবে পরিসংখ্যান এবং ইতিহাস বলছে অন্য কথা। গত বছর এপ্রিল মাসে পহেলগামে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল। ৭ মে ভারতীয় বায়ুসেনা এবং সেনাবাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। পাকিস্তান পাল্টা ড্রোন হামলার চেষ্টা করলেও ১০ মে-র মধ্যে ভারতের নিখুঁত নিশানায় ধূলিসাৎ হয়ে যায় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি, এয়ারবেস এবং রাডার সিস্টেম। অবস্থা বেগতিক দেখে ১১ মে খোদ ইসলামাবাদই দিল্লির কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য দরবার করতে বাধ্য হয়েছিল। সেই পরাজয়ের এক বছর পূর্তিতেই এবার নতুন করে রণহুঙ্কার দিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেন ফিল্ড মার্শাল মুনির।















