আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক কোপে পড়ল ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করে যে সকল দেশ তারা। সোমবার ট্রাম্প নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেন যে, ইরানের সঙ্গে যে সব দেশ ব্যবসা করছে তাদের উপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। এটাই চূড়ান্ত নির্দেশে। এর ফলে আরো বিপাকে পড়তে চলেছে ভারত। কারণ, ইরানের ব্যবসায়িক সঙ্গীদের তালিকায় চিন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইরাকের পাশাপাশি ভারতও রয়েছে।
ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যে কোনও দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা যে কোনও এবং সব ব্যবসার উপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক প্রদান করবে। এই আদেশ চূড়ান্ত। অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।”
কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমনের জেরে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছেন ট্রাম্প। ঠিক এমন সময়ে এই শুল্ক ঘোষণা করা হলো। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি ইরানে বাড়তে থাকা মৃত্যুর সংখ্যার কথা জানিয়েছে ইতিমধ্যেই। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিনা লেভিট সোমবারই জানান, ইরানে এয়ার স্ট্রাইক-সহ সম্ভাব্য নানা পদক্ষেপের কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভে বিধ্বস্ত ইরানে হস্তক্ষেপ করার জন্য ট্রাম্পের কাছে নানা বিকল্প রয়েছে। কিন্তু তিনি কোন পথ বেছে নেবেন তা নির্ভর করে তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর। দশ দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে ইরানের ধর্মীয় সরকার যদি বিপুল সংখ্যায় রাস্তায় নেমে আসা বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে তাঁদের 'উদ্ধারে এগিয়ে আসতে' আমেরিকা ‘প্রস্তুত’ আছে। এরপর থেকে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে চলেছেন। যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে এরই মধ্যে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লব পশ্চিমপন্থী শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই ইরান আমেরিকার ঘোর শত্রু। তখন থেকে ক্ষমতায় থাকা এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিরক পটকে বদলে দেবে। কিন্তু ট্রাম্প এর আগে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনকে’ একটি লক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ইরাকে আমেরিকার হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। ট্রাম্প তেহরানের বন্ধ করে দেওয়া ইন্টারনেট সংযোগ জোর করে পুনরুদ্ধার করার উপায় নিয়েও কথা বলেছেন। দুই দেশের সরকার এও জানিয়েছে, ট্রাম্পের বন্ধু এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মাধ্যমে সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে।
