আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুবাইয়ে পর্যটকরা হোটেলের বেসমেন্ট ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় আশ্রয় নেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। মধ্যএশিয়ায় টানা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে ভয়াবহ, আতঙ্কের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সামরিক অভিযানের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতসহ একাধিক দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, দুবাইয়ের বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলের বেসমেন্ট ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং এলাকায় মেঝেতে সারি সারি গদি পাতা হয়েছে। শত শত অস্থায়ী শয্যার ব্যবস্থা করা হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষ খাবার ও পানীয় জলের স্টেশনও তৈরি করে, যাতে আতঙ্কের মধ্যে থাকা অতিথিদের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানো যায়।অনেক পরিবারকে শিশুদের নিয়ে এই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাতে দেখা গেছে। বাসিন্দাদের স্মার্টফোনে এয়ার রেইড সতর্কবার্তা পৌঁছানোর পরই হোটেলগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে অতিথিদের নিচতলায় সরিয়ে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জবাবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় দুবাই ও আবুধাবিতেও। অভিযোগ উঠেছে, দুবাইয়ের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আবুধাবির আল-ধাফরা এয়ারবেস লক্ষ্য করে চালানো হয়েছ হামলা। শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতই নয়, বিস্ফোরণের খবর আসে দোহা, রিয়াদ, মানামা, জেরুজালেম ও তেল আবিব থেকেও। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এই অভিযানকে “বড় পরিসরের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ” বলে বর্ণনা করেছে। 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে এক ব্যবহারকারী এক্স হ্যান্ডেলের চ্যাটবট ‘গ্রোক’-এর কাছে সত্যতা যাচাই চান। গ্রোক জানায়, এটি ভুয়ো তথ্য নয়। হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বহু হোটেল অতিথিদের বেসমেন্ট ও আন্ডারগ্রাউন্ড এলাকায় সরিয়ে দেয়। বিভিন্ন জায়গায় মেঝেতে গদি পাতা ও খাবার-পানির ব্যবস্থা করার ঘটনাও নিশ্চিত করা হয়। 

পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমানা বন্ধ করে দেয়। ফলে হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে বা হোটেলে আটকে পড়েন। আন্তর্জাতিক উড়ান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে। দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ভূপাতিত করা হয়েছে। এছাড়া ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করে ৫০৬টি ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে। 

হামলার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশি নাগরিকসহ তিন জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন। কুয়েতেও একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বাণিজ্যিক বন্দরে ড্রোন হামলায় এক বিদেশি শ্রমিক আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। 

ইসরায়েলি সূত্রে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত পাঁচ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দুবাইয়ের হোটেল বেসমেন্টে আশ্রয় নেওয়া পর্যটকদের ভিডিও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। বিলাসবহুল ভ্রমণ হঠাৎ করেই রূপ নিল যুদ্ধকালীন সতর্কতায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।

&t=20s