আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক বিয়ের আসর। একটাই বিয়ের মণ্ডপে। এক লগ্নেই দু'জনের গলায় মালায় পরালেন ৩৭ বছরের এক যুবতী। বিয়ের আসরে একসঙ্গে দুই যুবকের সঙ্গে যুবতীর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ছবি, ভিডিও ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ৩৭ বছরের ওই যুবতী থাইল্যান্ডের বাসিন্দা। দুই যুবক অস্ট্রিয়ার বাসিন্দা। বিয়ের আসরটি বসেছিল থাইল্যান্ডের প্রাখন চাই জেলায়। ওই দুই যুবক ই পাত্রীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তিনজনে একসঙ্গে আলোচনা করেই এই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
পাত্রী আগে গান গাইতেন। পেশায় তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী ও গীতিকার ছিলেন। অস্ট্রিয়ার প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রোমানের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে পাটায়ায় আলাপ হয়েছিল। এরপর রোমানের বন্ধু মিকির সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। তিনিও অস্ট্রিয়ার একজন পুলিশ কর্মকর্তা। একবছর মিকির সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল তাঁর। এরপর তিনজনে একসঙ্গে মিলে এই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
যুবতী এর আগেও একবার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম বিয়ের পর তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। দু'জন নাতি রয়েছে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরেই রোমানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। রোমান ও মিকি দু'জনেই তাঁর সন্তান ও নাতিদের দেখভাল করতেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন যুবতী। বিয়ের অনুষ্ঠানে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ছাড়াও তাঁর সন্তানরা উপস্থিত ছিল। থাইল্যান্ডের প্রাচীন রীতি মেনেই বিয়ের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এই বিয়ের জন্য ২৯ লক্ষ টাকা করে পণ দিয়েছেন দুই অস্ট্রিয়ার পাত্র।
গত বছর আগস্ট মাসে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল হিমাচল প্রদেশে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রদীপ নেগি ও কপিল নেগি দু'জনেই হিমাচল প্রদেশের সিরমুর জেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে পাত্রী সুনিতা চৌহান কুনহাট এলাকার বাসিন্দা। দুই পাত্র ও এক পাত্রী, তিনজনেই হট্টি সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যেই বিয়ের চল রয়েছে। পলিয়ান্দ্রি রীতি মেনে তাঁরা বিয়ে করেন। সুনিতা একসঙ্গে প্রদীপ ও কপিলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
সম্প্রতি প্রদীপ জানিয়েছেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই আমাদের ট্রোল করছেন। কিন্তু তাতে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমাদের এটাই প্রাচীন রীতি। সেই রীতি মেনেই বিয়ে করেছি। এলাকায় এমন দম্পতি আরও অনেক আছে। এই রীতি নিয়ে এখনও বিয়ে হয়। আমাদের জাতির প্রাচীন রীতি মেনে বিয়ে করায় আমি লজ্জিত নই!'
অন্যদিকে কপিল জানিয়েছেন, 'আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমাদের খবরের শিরোনামে আসার কোনও ইচ্ছে ছিল না। আমরা শুধুমাত্র রীতি মেনেই বিয়ে করেছি। এমন বিয়ের একটাই উদ্দেশ্য, সংসারে সকলে শান্তিতে যৌথভাবে থাকা। তাতে ভালবাসাও অটুট থাকে। আমাদের মধ্যে কোনও ঈর্ষা নেই। আমাদের জমি, সম্পত্তি সীমিত। তাই নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করতেও সুবিধা হয়।'
হিমাচল প্রদেশের হট্টি সম্প্রদায়ের এই পলিয়ান্দ্রি বিয়ের রীতি দ্রৌপদী প্রথা নামেও পরিচিত। হিমাচলের সিরমুর ছাড়াও, উত্তরাখণ্ডের কয়েকটি এলাকায় এই রীতি মেনে বিয়ের চল রয়েছে। একাধিক ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কনে। পৈতৃক ভিটে যাতে ভাগাভাগি না হয়, কোনও স্ত্রী যাতে এক ভাইয়ের মৃত্যুর পর বিধবা না হন, তার জন্যেই একাধিক ভাইয়ের সঙ্গে একজনের বিয়ে দেওয়া হয়। এতে পরিবারে সুখ, শান্তিও বজায় থাকে।
জানা গেছে, প্রদীপ জল শক্তি দপ্তরের কর্মী। কপিল বিদেশে হসপিটালিটি ইন্ড্রাস্ট্রিতে কর্মরত। দু'জনে দুই দেশে থাকলেও, সম্প্রদায়ের প্রাচীন রীতি মেনে বিয়েতে রাজি হন। সুনিতার সঙ্গে আলাপ পরিচয়ের পর তাঁদের পছন্দ হন। দু'জনেই সুনিতাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন দ্রুত। সুনিতা জানিয়েছেন, 'আমাকে কেউ বিয়ের জন্য জোরাজুরি করেননি। দ্রৌপদী প্রথার বিয়ের রীতি আমি আগে থেকেই জানতাম। সব রীতি, রেওয়াজ জেনেই এই বিয়েতে আমি সম্মতি জানিয়েছিলাম।' দুই ভাই জানিয়েছেন, 'আমার আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে সবসময় গর্ববোধ করি। পারস্পরিক আলোচনার পরেই তিনজনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের পরিবারের বন্ধন যাতে আজীবন অটুট থাকে, তাই দ্রৌপদী প্রথায় বিয়েতে রাজি হয়ে যাই।'
