আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন মুলুক আক্রমণ চালিয়েছে ভেনেজুয়েলার উপর। শুধু তাই নয়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে ভেনেজুয়েলা থেকেই তুলে নিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। পরিস্থিতি বিচারে, প্রেসিডেন্টের অবতর্মানে এবার সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্টকেই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট।
ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক চেম্বার শনিবার রায় দিয়েছে, নিকোলাস মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজকে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে যে, রড্রিগেজ প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ভেনেজুয়েলার বলিভারিয়ান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করবেন। যদিও দায়িত্ব পেলেই সস্ত্রীক মাদুরোর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। ডেসলি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।' অন্যদিকে, ট্রাম্পের 'আমেরিকাই ভেনেজুয়েলা চালাবে' মন্তব্যের বিরোধিতা করে সুর চড়িয়েছেন ডেসলি। সাফ জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা নিজেদের দেশকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, 'আমরা কখনও কারও দাসত্ব করব না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ আর আমরা হব না।'
শনিবার ভোররাতে কারাকাসে বিমান হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে মার্কিন বাহিনী। ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরেই খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এক রাষ্ট্রপ্রধানের অপর রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তারের ঘোষণায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বিশ্বরাজনীতিতেও। শনিবার স্থানীয় সময় ভোর দু'টো থেকে কারাকাস জুড়ে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের খবর আসার পরেই এই দাবিটি করা হয়। বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণে শহরের একাধিক এলাকা কেঁপে ওঠে, মাথার বেশ নীচ দিয়ে বিমান উড়তে দেখা যায়, যার ফলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারপরেই নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ভেনেজুয়েলা এবং তাঁর নেতার বিরুদ্ধে সফলভাবে একটি বড় আকারের হামলা চালিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত এক অভিযানে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে দেশ থেকে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার উপর হামলা চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।
প্রসঙ্গত, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ভেনেজুয়ালা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে হুঁশিয়ারির সুরেই মার্কিন নৌসেনাকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পাঠানোর কথা বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফলে ভেনেজুয়েলায় হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।
গত সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোর জন্য ব্যবহৃত একটি ডকিং এলাকা লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। তাতেই মাদক পাচারকারী নৌকাগুলি ধ্বংস হয়েছে। তবে, এই অভিযান সামরিক নাকি সিআইএ-র উদ্যোগ ছিল, অথবা আক্রমণটি কোথায় হয়েছিল, সে সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিছু বলতে রাজি হননি। কেবল ট্রাম্প বলেছিলেন যে, আক্রমণটি "উপকূল বরাবর" হয়েছিল।
