আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আমেরিকা–ইজরায়েল ও ইরান সংঘাত ক্রমশ এক ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। এই সংঘাতে কৌশলের পাশাপাশি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে অর্থনীতি। বিশেষ করে অস্ত্রের খরচ অর্থনীতিকে ভয়াবহ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। অস্ত্র মজুত করতে গিয়ে সেই অঙ্ক আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছে। ইরানের তৈরি শাহেদ–১৩৬ ড্রোন, যার আনুমানিক দাম মাত্র ২০ হাজার ডলার, তা মোকাবিলায় আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশরা ব্যবহার করছে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার দামের এমআইএম ১০৪ মিলিয়ন ক্ষেপণাস্ত্র। ফলে, যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে এই যুদ্ধকালীন অস্ত্র খরচের বিষয়টি। 

গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে বিমান হামলার পর থেকে ইরান ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। সোমবার পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, তেল সংশোধনাগার লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন আঘাত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দাবি, মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ৯০ শতাংশেরও বেশি হারে এই হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এভাবে ব্যয়বহুল ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহার করে কতদিন প্রতিরক্ষা চালানো সম্ভব? সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকেই পরিষ্কার হয়েছে, কম খরচের অস্ত্র দিয়ে উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা যায়। 


সংঘাতের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই উভয় পক্ষের মজুত থাকা অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কাতারের একটি অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান গতিতে ড্রোন ব্যবহৃত হলে চার দিনের মধ্যেই মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। যদিও কাতার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে তাদের মজুত থাকা অস্ত্রের পরিমাণ যথেষ্ট। লকহিড মার্টিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৬০০টি পিএসি–৩ ড্রোন তৈরি হয়েছে। অথচ গত কয়েক দিনে হাজার হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে ধারণা। 
অন্যদিকে, ইরানের হাতে গত বছরের ইজরায়েল সংঘাতের পর প্রায় ২ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে অনুমান। এছাড়া শাহেদ ড্রোনের মজুত আরও বেশি হতে পারে। রাশিয়া প্রতিদিন কয়েকশো ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, ড্রোন উৎপাদনের গতি ধরে রাখা সম্ভব। 

যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের আকাশসীমায় বড় আঘাত হানে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী। রাশিয়ান তৈরি এস–৩০০ ব্যাটারিসহ একাধিক সারফেস–টু–এয়ার ইউনিট ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন ও ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান কার্যত বাধাহীনভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

 মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্যাট্রিয়টের পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ব্যবহার করছে টিএইচএএডি সিস্টেম, যার প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা ১১০ কোটি টাকারও বেশি। তবে এগুলো মূলত উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যবহৃত হয়, ড্রোনের বিরুদ্ধে নয়। 

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রোন মোকাবিলায় লেজার, স্বয়ংক্রিয় কামান বা এমনকি অন্য ড্রোন ব্যবহার করা তুলনামূলক সস্তা সমাধান হতে পারে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল তৈরি করেছে আয়রন বিম লেজার সিস্টেম। তবে চলমান সংঘাতে এটি এখনও ব্যবহৃত হয়নি বলে জানিয়েছে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। 

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ ইরাকের মতো দীর্ঘমেয়াদি হবে না।