আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টি সর্বসমক্ষে আনেন। জানিয়ে দেন, দুই দেশের চুক্তি হয়নি, এবং চুক্তি ছাড়াই দেশে ফিরছেন তিনি। তাঁর দাবি, ইরান শর্ত মেনে নেয়নি। অন্যদিকে ইরানের সুর ভিন্ন। কিন্তু ঠিক কোন কারণে, ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরেও চুক্তি হল না দু'দেশের?

ভ্যান্স বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি না হলেও, তিনি যা দাবী করছেন, তার মূল বিষয় হল, পরমাণু বোমা সংক্রান্ত যে আলোচনা আমেরিকা ইরানের সামনে রেখেছিল, তাতে রাজি হয়নি সে দেশ। ভ্যান্স জানিয়েছেন, 'আমরা প্রতিশ্রুতি চেয়েছিলাম, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, এমন কোনও পন্থা অবলম্বন করবে না, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করবে। এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল যা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এখনও কোনও প্রতিশ্রুতি পাইনি। আশা করছি ভবিষ্যতে পাব।' সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, 'তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, বা আগে তাদের যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ছিল, সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।'

একদিকে আমেরিকা যখন পরমাণু বোমা নিয়ে আলোচনার বিষয়টিকে তুলে আনছে বড় কারণ হিসেবে, ইরান দাবি করছে ভিন্ন। ইরানি সংবাদসংস্থাগুলির মতে, হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন বিষয় বিবাদের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবী, আমেরিকা একগুচ্ছ অযৌক্তিক শর্ত রেখেছে সামনে। 

রবিবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে ঘানার ইরানি দূতাবাস জানিয়েছেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে এমন কিছু বিষয় দাবি করেছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি। ইরান স্পষ্ট 'না' জানিয়েছে। বৈঠক শেষ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।' এদিন ইরানের সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, ইসলামাবাদে আয়োজিত বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের ‘অন্যায্য দাবির’ কারণে ভেস্তে গিয়েছে। এক বিবৃতিতে আইআরআইবি জানায়, ইরানের আপামর জনসাধারণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশের প্রতিনিধিদল টানা ২১ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়েছে। ইরানি প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গঠনমূলক উদ্যোগ নেওয়া হলেও, মার্কিন প্রতিনিধিদের তরফে অন্যায্য ও অযৌক্তিক দাবি বৈঠকের অগ্রগতিতে বাধা দেয়। যার জেরে চুক্তি ছাড়াই বৈঠক ভেস্তে যায়।

তাহলে যুদ্ধ-বিরতি পরবর্তী বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় পরিণতি কী হবে? দুই দেশ কি আর বৈঠকে বসবে? নাকি আলোচনার শেষ এখানেই? যদিও তা নিয়ে এখনও দু'দেশের প্রতিনিধিদের মুখে কুলুপ।