আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের নেতৃত্বে আছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু, এই যুদ্ধের কারণ কী, লক্ষ্যই বা কী, সময়সীমাই বা কত, এসব নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে বারবার বক্তব্য বদলানোর অভিযোগও। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
প্রথমদিকে ট্রাম্পের কথায়, ইরানে সরকার পরিবর্তনই এই যুদ্ধের লক্ষ্য। অর্থাৎ, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হবে। কিন্তু, পরে তাঁর বয়ান বদলে যায়। তাঁর কথায়, এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে না দেওয়া। কিন্তু, পরে তিনি জানান, ইরান আগে আকেরিকাকে আক্রমণ করতে যাচ্ছিল। সেই আভাস পেয়ে আমেরিকা আত্মরক্ষায় ইরানকে আগে আক্রমণ করেছে। কিন্তু আমেরিকান প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, এমন কোনও তথ্য তাদের কাছে ছিল না যে ইরান আগে হামলা করতে যাচ্ছিল। এর ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রশ্নের মুখে পড়ে।
ট্রাম্প একদিকে বলেন, আমেরিকার কাছে সীমাহীন অস্ত্র মজুত আছে। তাঁর কথায়, যদি প্রয়োজন হয় আমেরিকা সারাজীবন যুদ্ধ চালাতে পারে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি জানান, প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাহলে যদি অস্ত্র সীমাহীন থাকে, উৎপাদন বাড়ানোর দরকার পড়ল কেন?
বিদেশি সংবাদমাধ্যম জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ইরান কম খরচের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি এও বলেন, সম্ভাব্য উত্তরসূরিদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হলেন আলি খামেনেই। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, আলি খামেনেই-এর পাশাপাশি তাঁর পরের সারির নেতারাও নাকি মারা গিয়েছেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই খবর আসে, ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন শীর্ষ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনেইকে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ ইরানের নেতৃত্বে আপাত দৃষ্টিতে কোনও বড় শূন্যতা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি ইরান আমেরিকাকে পালটা আক্রমণও করে যাচ্ছে সমানে। আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে।
গত বছর ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু এবার তিনি বলেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। প্রশ্ন উঠছে, যদি আগেই ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে আবার কী ধ্বংস করার কথা বলছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট?
ট্রাম্পের কথায়, ইরান আগে হামলা করতে যাচ্ছিল। এদিকে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্রো রুবিও বলেন, ইজরায়েলের আসন্ন হামলার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়েছে। এই দুই বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এতে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি বেড়েছে।
প্রথমে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ দুই থেকে তিন দিন চলবে। পরে বলেন, যুদ্ধ চলবে এক সপ্তাহ ধরে। তারও পরে বলেন, চার থেকে পাঁচ সপ্তাহও লাগতে পারে। সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি বলেন, সময়সীমা নির্দিষ্ট নেই। প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। এই পরিবর্তিত বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এক সার্ভেতে দেখা গিয়েছে, মাত্র চারজনের মধ্যে একজন আমেরিকান নাগরিক এই আক্রমণকে সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ জনসমর্থন খুব শক্ত নয়। যুদ্ধের খরচ, প্রাণহানি এবং কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে জনগণের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ে। যুদ্ধের লক্ষ্য, কৌশল এবং সময়সীমা নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাম্পের ধারাবাহিক বক্তব্যে সেই স্পষ্টতা দেখা যাচ্ছে না। বরং বারবার অবস্থান বদলানোর ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল অপেক্ষা করছে পরিষ্কার ব্যাখ্যার। আর সাধারণ মানুষ চাইছে স্থিতিশীলতা ও নিশ্চিত তথ্য।
