আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ১০ লাখেরও বেশি যোদ্ধা তৈরি করছে ইরান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নিয়োগ কেন্দ্রগুলোতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের ঢল নেমেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম' একটি সামরিক সূত্র-কে উদ্ধত করে জানিয়েছে যে, এই বাহিনীগুলোকে সুসংগঠিত করা হয়েছে এবং তারা যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। 'বাসিজ', 'ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কর্পস' (আইআরজিসি) এবং সেনাবাহিনীর পরিচালিত কেন্দ্রগুলোতে নাগরিকদের ব্যাপক সমাগমের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, ইরানের মাটিতে আমেরিকানদের জন্য একটি 'ঐতিহাসিক নরক' তৈরির লক্ষ্যে ইরানি স্থলযোদ্ধাদের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনা ও উৎসাহের ঢেউ জেগে উঠেছে।
মধ্য এশিয়ায় আমেরিকান সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ '৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন'-এর সৈন্যরা কয়েক দিনের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে এসে পৌঁছবে এবং ওই অঞ্চলে আগে থেকেই অবস্থানরত হাজার হাজার নৌ-সেনার সঙ্গে যোগ দেবে। এসবের মধ্যেই ইরানের ১০ লাখ সেনা তৈরির খবর চাছ়্ল্য তৈরি করেছে। মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার দাবি করলেও, তেহরান ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা যেকোনও কূটনৈতিক প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, আমেরিকান সৈন্যরা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখে, তবে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
রহস্য উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরান সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে আমেরিকাকে একটি "রহস্যময় উপহার" পাঠিয়েছে। যদিও সেই সময়ে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি এটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিপুল আর্থিক মূল্যের একটি 'পুরস্কার' হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প অবশেষে সেই রহস্যের জট খুলে দেন। তিনি জানান যে, ইরান- আমেরিকাকে ১০টি তেলের জাহাজ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। যার উদ্দেশ্য ছিল তারা যে "বাস্তব ও নির্ভরযোগ্য", তা প্রমাণ করা।
ট্রাম্প বলেন, "তারা বলেছিল—আমরা যে বাস্তব, নির্ভরযোগ্য এবং আমাদের যে অস্তিত্ব আছে, তা আপনাদের সামনে প্রমাণ করার জন্য আমরা আপনাদের আটটি তেলের জাহাজ - হ্যাঁ, আটটি বড় তেলের জাহাজ - নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেব। আমার মনে হয় তারা ঠিকই বলেছিল। তারা সত্যিই বাস্তব ছিল। আমার ধারণা, জাহাজগুলোতে পাকিস্তানের পতাকা লাগানো ছিল... শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টিতে।" তিনি আরও জানান যে, অতিরিক্ত ওই দু'টি জাহাজ পাঠানো হয়েছিল—"তাদের বলা কোনও কথার জন্য ক্ষমা চাওয়ার নিদর্শন হিসেবে।"
আমেরিকান বা ইজরায়েলি সামরিক তৎপরতার কোনও সংযোগ থাকলেই ইরান 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে সেইসব জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে, ভারত-সহ সীমিত সংখ্যক দেশের অন্যান্য জাহাজকে চলাচলের অনুমতিও দিয়েছে তেহরান।
চাপের মুখে আমেরিকার অস্ত্রের মজুদ
এই সংঘাত এখন আমেরিকার ওপর আর্থিক এবং অন্যান্য - উভয় দিক থেকেই ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুদ ক্রমশ কমে আসছে। এর ফলে সামরিক বাহিনীকে সম্ভবত অপেক্ষাকৃত পুরনো ও কম নিখুঁত যুদ্ধাস্ত্র - যা 'ডাম্ব বম্ব' নামে পরিচিত—ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হবে। সাধারণত বিশেষ কোনও পরিস্থিতিতে কিংবা সীমিত বাজেটের বিমান বাহিনীগুলোই এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।
সংঘাতের প্রথম ১৬ দিনে আমেরিকা ও তার 'বন্ধু' দেশগুলো সম্মিলিতভাবে ১১,০০০ যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানা গিয়েছে। যার মোট আনুমানিক ব্যয় ছিল ২৬ বিলিয়ন ডলার। জনসমক্ষে উভয় পক্ষের কঠোর বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও, পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও অভিযোগ যে, উভয় পক্ষই একে অপরের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।















