আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাম্প তাঁর বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে বিদেশি পণ্যের উপর আরোপিত ব্যাপক শুল্কের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন। তিনি দাবি করেন, যেসব দেশ “বছরের পর বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়েছে”, তারা এখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করছে। ট্রাম্পের মতে, এই শুল্কই ভবিষ্যতে আধুনিক আয়কর ব্যবস্থার বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এবং সাধারণ আমেরিকানদের উপর থেকে আর্থিক চাপ কমাবে।
নিজের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি বিশ্বাস করি, বিদেশি দেশগুলোর পরিশোধ করা শুল্ক অতীতের মতোই আধুনিক আয়কর ব্যবস্থাকে অনেকাংশে প্রতিস্থাপন করবে। এতে আমার প্রিয় আমেরিকান জনগণের উপর থেকে বড় আর্থিক বোঝা সরে যাবে।”
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ শুল্কনীতি। তিনি বলেন, “আমি এই শুল্ক ব্যবহার করে শত শত বিলিয়ন ডলার আয় করেছি এবং আমাদের দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা চুক্তি ভিত স্থাপিত করেছি। যেসব দেশ দশকের পর দশক আমাদের ঠকিয়েছে, তারা এখন আমাদের শত শত বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে।” তাঁর দাবি, এই নীতির ফলে মুদ্রাস্ফীতি ছিল না এবং বৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের, যেখানে তাঁর পূর্ববর্তী বিস্তৃত আমদানি শুল্ক বাতিল করা হয়েছে। ৬-৩ ভোটে দেওয়া ওই রায়কে তিনি “খুবই দুর্ভাগ্যজনক” বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, “প্রায় সব দেশ ও কর্পোরেশন আগের চুক্তি বজায় রাখতে চায়, কারণ তারা জানে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন চুক্তি করার যে আইনি ক্ষমতা আমার আছে, তা তাদের জন্য আরও কঠোর হতে পারে।”
রায়ে ধাক্কা খেলেও ট্রাম্প নতুন করে ১৫ শতাংশ বিশ্বের শুল্ক আরোপের নির্দেশে সই করেন। এই শুল্ক একটি আইনের আওতায় কার্যকর হবে, যা ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয় এবং তা “প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই” কার্যকর হবে বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, কংগ্রেসের আলাদা পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই; এই আইনই যথেষ্ট।
এর আগে, ২ এপ্রিল ট্রাম্প “রেসিপ্রোকাল” বা পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেন—যেসব দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আমদানিতে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এবং অন্যান্য প্রায় সব দেশের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ভিত্তিগত শুল্ক ধার্য করা হয়। ১৯৭৭ সালের একটি আইন ব্যবহার করে তিনি বাণিজ্য ঘাটতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেন। তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে তিনি ৯০ দিনের জন্য এই শুল্ক স্থগিত রাখেন, যাতে দেশগুলো আলোচনার সুযোগ পায়। পরে কয়েকটি দেশ সমঝোতায় এলেও যারা রাজি হয়নি, তাদের উপর আরও কঠোর শুল্ক চাপানো হয়।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত মীমাংসায়ও শুল্ক আরোপের হুমকি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। তাঁর কথায়, “শুল্কের সমস্যা না থাকলে আমি বহু যুদ্ধের মীমাংসা করতে পারতাম না।” সব মিলিয়ে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই তাঁর শুল্কনীতির মূল লক্ষ্য বলে তিনি ফের একবার নিজের মতের হয়ে জোরালো সওয়াল করেন।
