আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান যুদ্ধের ৩২তম দিনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো প্রায় আদায় হয়ে এসেছে এবং খুব শীঘ্রই এই লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটবে। বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ২০ মিনিটের এই ভাষণে ট্রাম্প যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, মার্কিন বাহিনী তাদের দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করার পথে রয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষের আশ্বাস দিলেও আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানকে "প্রস্তর যুগে" পাঠিয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ হামলা চালানোর হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের এই ভাষণ বিশ্ব অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্প ইরানকে আরও কঠোরভাবে আঘাত করার কথা বলতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশ বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারেও। যদিও মার্কিন জনমত এখন যুদ্ধের বিপক্ষে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে আসছে, বিশেষ করে আকাশচুম্বী জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। কিন্তু ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়সীমার উদাহরণ টেনে যুক্তি দেন যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত খুব বেশি দিন ধরে চলছে না।

মজার ব্যাপার হল, ভাষণে ট্রাম্প যতটা সংযত ছিলেন, দিনের শুরুতে হোয়াইট হাউসের ইস্টার লাঞ্চে তিনি ছিলেন ততটাই আক্রমণাত্মক। সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও পরে সরিয়ে নেওয়া হলেও সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "আমরা চাইলে ইরানের তেল দখল করে নিতে পারতাম, কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের অত ধৈর্য নেই।" এছাড়া ন্যাটোর ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান বা চীনের এগিয়ে আসা উচিত, কারণ তারা এই পথ দিয়েই সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, বি-২ বোমারু বিমানের আঘাতে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং এখন সেখান থেকে ধুলোবালি ওড়ানো ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই। তবে প্রেসিডেন্ট যখন জয়ের গান গাইছেন, ঠিক তখনই ইরান ও তার মিত্ররা ইজরায়েল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমনকি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এসেছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তাকে সরাসরি 'ভিত্তিহীন মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক খোলা চিঠিতে সরাসরি মার্কিন জনগণের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, এই যুদ্ধ আসলে সাধারণ আমেরিকানদের কী উপকারে আসছে? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের যুদ্ধের লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হয়েছে, যা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও বিভ্রান্তি রয়েছে। ইজরায়েলের সাথে যৌথভাবে চালানো এই হামলায় ইরানের তেলের খনিগুলো এখন হুমকির মুখে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ট্রাম্প কাজ শেষ করার কথা বললেও পশ্চিম এশিয়ায় হাজার হাজার নতুন মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং নতুন করে হামলার হুমকি পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই ইঙ্গিত করছে।