আজকাল ওয়েবডেস্ক: সামনেই জন্মদিন। আর সেই জন্মদিনে তাক লাগিয়ে দিতে হবে বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতদের। হুল্লোড়-আয়োজনতো থাকছেই, নিজেকে সকলের সামনে আরও নজরকাড়া করতে কিশোরী বেছে নিয়েছিল একটি নির্দিষ্ট পোশাক। তবে তাতেও বিপত্তি ছিল কিছুটা। ওই পোশাক ফিট হতে বেশকিছুটা মেদ ঝরানোর প্রয়োজন ছিল। যেমন ভাবা তেমন কাজ। মেদ ধরানোর চক্করে কিশোরী দিনের পর দিন যা করে বদলেন, জন্মদিন গেল, হাত মাথায়। ভুগতে হল চরম পরিণতি।

চীনের ১৬ বছরের এক তরুণীর এমনই এই কাণ্ড সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, জন্মদিনের পোশাক শরীরে যাতে ফিট হয়, তার জন্য ঠিক দু’ সপ্তাহ আগে থেকে অসম্ভব এক ডায়েট প্ল্যান করে। আর তাতে মেদ ঝরানোর বদলে, নিজের জীবনেই বড় বিপদ ডেকে আনে বলে জানা গিয়েছে। 

আরও পড়ুন: বাড়ির কুকুর টিভি দেখতে পছন্দ করে, তাহলে ভুলেও এই কাজটি করবেন না, তাহলেই.......

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদনে এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে বছর ষোলোর ওই কিশোরীর নাম মেই। জানা গিয়েছে, হাতে যখন আর একমাসও সময় নেই, অথচ ওই আঁটোসাঁটো পোশাক পরেই মনে মনে নিজেকে লাস্যময়ী কল্পনা করে ফেলেছে মেই, তখন উপায়ান্তর না দেখে সঙ্গে সঙ্গে ক্র্যাশ ডায়েটের পরিকল্পনাও করে ফেলে। ঠিক করে নেয়, জন্মদিনের আগের পনেরো দিন ঠিক কী কী খাবে সে। 

কী কী খেল? অবশ্যই তেল-ঝাল-মশলা থেকে শতহস্ত দূরে বিচরণ। শুধু তাই নয়। ওই ১৫ দিনের খাদ্যভাসে মেই কেবল রেখেছিল কিছু সবজি আর জোলাপ জাতীয় ওষুধ। 

এইভাবে চলছিল প্রথম কয়েকদিন। তারপরেই ঘটে বিপত্তি। আচমকা একদিন তার হাত-পা অসাড় হয়ে পড়ে। শরীর অস্বাভাবিক দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি শ্বাসকষ্ট হয় বলেও জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। তৎক্ষণাৎ তাকে নিয়ে যাইয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। 

ঠিক কী শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল মেইয়ের ক্র্যাশ ডায়েটের ফলে? ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ১৬ বছর বয়সী মেয়েটির রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের অনেক নিচে নেমে গেছে, যার ফলে হাইপোক্যালেমিয়া নামক একটি গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।মেইয়ের চিকিৎসক, হুনান পিপলস হাসপাতালের পেং মিন ব্যাখ্যা করেছেন যে এই অবস্থার ফলে শ্বাসকষ্ট এবংআচমকা হৃদযন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। হাইপোক্যালেমিয়া প্রায়শই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয়। তেমনটাই জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

 অপর এক হাসপাতালের চিকিৎসক লি, এই শারীরিক অসুস্থতা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, শরীরে কম পরিমাণ জলের উপস্থিতি এই ধরনের গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহে পটাশিয়ামের মাত্রা বজায় রাখার জন্য সাধারণ মানুষকে আলু, মুরগির মাংস এবং কলা খাওয়া উচিত, এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করা উচিত।


কিশোরীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছিল। তার জীবন বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকরা তৎক্ষণাৎ ১২ ঘণ্টার এমারজেন্সি মেডিক্যাল প্রসিডিওরের মধ্যে পাঠান তাকে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকার পর, মেই সুস্থ হয়ে গিয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত আর সে নেবে না।