আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে কিছু গ্রহাণু সমষ্টি আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহাণুগুলির বৈশিষ্ট্য হল সেগুলি তীব্র বেগে ঘুরে চলেছে। এগুলির মধ্যে ঘোরার গতি সবার চেয়ে বেশি। চিলির ভেরা সি রুবিন অবজারভেটরিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরা রয়েছে। সেই ক্যামেরায় মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মাঝে একটি গ্রহাণু সমষ্টিতে এরকম ১৯টি গ্রহাণু খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।

গবেষণার ফলাফল ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বর্ণনা করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন যে, একটি গ্রহাণুর ঘূর্ণনের গতি থেকে জানা যায় সেটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল, তার গঠন কেমন এবং এটি কী কী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। যদি কোনও গ্রহাণু অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘোরে, তার অর্থ হতে পারে যে এটি অন্য কোনও পাথরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে এবং এমনকি শীঘ্রই ভেঙেও যেতে পারে। গবেষণাপত্রে উল্লিখিত ৭৬টি গ্রহাণুর মধ্যে ১৬টি অতি দ্রুত ঘূর্ণনশীল, যেগুলি ১৩ মিনিট থেকে ২.২ ঘণ্টার মধ্যে একবার ঘোরে। এবং তিনটি চরম দ্রুত ঘূর্ণনশীল। যেগুলি প্রতি পাঁচ মিনিট বা তারও কম সময়ে একবার ঘোরে।

এই ১৯টি গ্রহাণুর সবক’টিই কমপক্ষে ৩০০ ফুট লম্বা, এবং কয়েকটির ব্যাস ৩,০০০ ফুটেরও বেশি। এদের মধ্যে বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে অবাক করেছে ২০২৫ এমএন৪৫। কারণ ৫০০ মিটার বা তার বেশি আকারের শিলাগুলির মধ্যে এটিকে ‘দ্রুততম ঘূর্ণনশীল’ গ্রহাণুর খেতাব দেওয়া হয়েছে। এই গ্রহাণুটির ব্যাস প্রায় ২,৩০০ ফুট এবং এটি প্রতি ১.৮৮ মিনিটে একবার ঘোরে। এই প্রবল গতির কারণে এটি ভেঙে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা ঘটেনি। এনওআইআরল্যাব-এর এক বিবৃতিতে প্রধান লেখক সারাহ গ্রিনস্ট্রিট বলেছেন, “স্পষ্টতই, এই গ্রহাণুটি এমন উপাদান দিয়ে তৈরি যা অত্যন্ত শক্তিশালী, যাতে এত দ্রুত ঘোরার পরেও এটি অক্ষত থাকে।”

তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ এমএন৪৫ গ্রহাণুকে অক্ষত থাকতে হলে সেটির পাথরের খণ্ডের মতো দৃঢ়তা থাকতে হবে। তিনি বলেন, “এটি কিছুটা আশ্চর্যজনক, কারণ বেশিরভাগ গ্রহাণুকেই আমরা যাকে ‘রাবল পাইল’ গ্রহাণু বলি। এর অর্থ এগুলি অনেক ছোট ছোট পাথর এবং ধ্বংসাবশেষের টুকরো দিয়ে তৈরি। যা সৌরজগতের গঠনকালে বা পরবর্তী সংঘর্ষের সময় মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে একত্রিত হয়েছিল।”

তিনি রুবিন অবজারভেটরির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “রুবিন সফলভাবে আমাদের এমন একদল তুলনামূলকভাবে ছোট, অত্যন্ত দ্রুত ঘূর্ণনশীল গ্রহাণু নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যা আগে সম্ভব ছিল না।” রুবিনের ‘লেগ্যাসি সার্ভে অফ স্পেস অ্যান্ড টাইম’ এই বছর শুরু হবে। এটি এই ধরনের আরও ঘূর্ণনশীল বস্তু আবিষ্কার করতে এবং তাদের সংঘর্ষের ইতিহাস ও শক্তি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।