আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ডামাডোল। যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে বিশ্বজুড়ে৷ এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের পথ বাধামুক্ত করতে বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাফ কথা- বিশ্ববাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে শক্তিপ্রয়োগ করবে আমেরিকা।

ট্রাম্পের এই বার্তার মূল নির্যাস মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে। এক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা কাটাতে ট্রাম্প আমেরিকার ‘ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স কর্পোরেশন’-কে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। এখন থেকে পণ্যবাহী জাহাজগুলি অত্যন্ত সস্তায় ‘রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা’ পাবে। যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি হলে সেই দায়ভার নেবে খোদ মার্কিন প্রশাসন।

দুই, পারস্য উপসাগর। বিশেষত হরমুজ প্রণালীর মতো স্পর্শকাতর এলাকায় তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন তিনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি এই জাহাজগুলিকে পাহারা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। অর্থাৎ, সমুদ্রপথে দাদাগিরি রুখতে মার্কিন রণতরী যে সর্বক্ষণ প্রস্তুত, সেই বার্তাই স্পষ্ট করলেন তিনি।

আর তিন, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য একটাই- জ্বালানির বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের সিংহভাগ খনিজ তেল পরিবাহিত হয়। ফলত সেখানে সামান্যতম অস্থিরতা তৈরি হলেও তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই চাকা সচল রাখতেই আমেরিকা এবার সামরিক ও আর্থিক- উভয় দিক দিয়েই গ্যারান্টার হিসেবে ময়দানে নামল।

বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ যেন কোনওভাবেই থমকে না যায়, তার জন্য এক হাতে বিমার চেক আর অন্য হাতে নৌবাহিনীর কামান নিয়ে পাহারাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাণিজ্যিক জাহাজ কোম্পানিগুলোকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন- "ব্যবসার ঝুঁকি এখন আমেরিকার, আপনারা নির্ভয়ে পণ্য পাঠান।"

অন্যদিকে, পাকিস্তান থেকে ঘর গোছাতে শুরু করল আমেরিকা। সে দেশের করাচি ও লাহোর- দুই প্রধান শহরের কনস্যুলেট থেকে জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাকি সব কর্মীদের ডেরা তোলার নির্দেশ দিল ওয়াশিংটন। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের আশঙ্কা, এই দুই শহরের মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর বড়সড় হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা। সেই আশঙ্কা থেকেই তড়িঘড়ি এই আগাম সতর্কতা। শুধু তাই নয়, আপাতত মার্কিন নাগরিকদের পাকিস্তান ভ্রমণেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন।