আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর এআই-নির্ভর কনটেন্ট ছড়ানো ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ নিল ইলন মাস্কের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স। সংস্থাটি তাদের ‘ক্রিয়েটর রেভিনিউ শেয়ারিং’ নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে—যদি কেউ সংঘাত নিয়ে এআই-জেনারেটেড ভিডিও পোস্ট করেন অথচ সেটি এআই দিয়ে তৈরি বলে উল্লেখ না করেন, তবে তাঁকে ৯০ দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হবে।
মঙ্গলবার এক পোস্টে এক্স-এর প্রোডাক্ট হেড নিকিতা বিয়ার বলেন, যুদ্ধের সময়ে মানুষের কাছে মাটির কাছাকাছি, বাস্তব তথ্য পৌঁছনো অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান এআই প্রযুক্তি দিয়ে খুব সহজেই এমন ভিডিও বা ছবি তৈরি করা যায়, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই প্ল্যাটফর্মে কনটেন্টের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নতুন নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।
বিয়ারের কথায়, “আজ থেকে যে কোনও ব্যবহারকারী যদি সশস্ত্র সংঘাত সম্পর্কিত এআই-তৈরি ভিডিও পোস্ট করেন এবং সেখানে স্পষ্ট ডিসক্লোজার না দেন, তবে তাঁকে ৯০ দিনের জন্য ক্রিয়েটর রেভিনিউ শেয়ারিং প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হবে। যদি ফের একই ধরণের ঘটনা হয় তাহলে স্থায়ীভাবে কর্মসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, কোনও পোস্টে ‘কমিউনিটি নোট’ যুক্ত হলে বা জেনারেটিভ এআই টুলের মেটাডেটা বা অন্যান্য সংকেত পাওয়া গেলে সেটি সংস্থার নজরে আসবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক্স প্ল্যাটফর্মে মেড ইউথ এআই নামে একটি লেবেল চালু করেছে, যা দর্শকদের জানিয়ে দেয় যে সংশ্লিষ্ট পোস্টে এআই ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কনটেন্টের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা বাড়ানোই সংস্থার লক্ষ্য।
এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানের উপর হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেইনির মৃত্যুর খবরে আন্তর্জাতিক দিকে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
বিয়ার সম্প্রতি সতর্ক করেছিলেন যে ‘এআই এজেন্ট’ প্ল্যাটফর্ম প্রযুক্তির উত্থান ইমেল, আইমেসেজ বা ফোন কলের মতো জনপ্রিয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে স্প্যামের জেরে প্রায় অকার্যকর করে দিতে পারে। এর পরপরই এক্স ‘স্প্যাম ও অটোমেশন ডিটেকশন’ ব্যবস্থা জোরদার করে।
এক্স স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মে অমানবিক ইন্টারঅ্যাকশনের লক্ষণ মিললে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট স্থায়ী সাসপেনশন করা হতে পারে। গত বছর শেষের দিকে এক্স দাবি করেছিল, তারা প্রায় ১৭ লক্ষ বট অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছে, যারা পোস্টের রিপ্লাই সেকশনে স্প্যাম ছড়াচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-নির্ভর কনটেন্টের বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনই ভুল তথ্য ও প্রোপাগান্ডার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে এক্স-এর এই কড়া অবস্থান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
