আজকাল ওয়েবডেস্ক: একের পর এক বিকট শব্দ। প্রথমে মনে হয়েছিল বিমান উড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভুল ভাঙল নিমেষে। এএফপি-র একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, নাগাড়ে কেঁপে উঠেছে ভেনুজুয়েলার রাজধানী কারাকাস। শনিবার ভোররাত থেকে ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চলছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে। শেষমেষ দেশজুড়ে জরুরী অবস্থা জারি করেছে ভেনিজুয়েলা সরকার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি নৌ টাস্ক ফোর্স মোতায়েন করেছেন, ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে স্থল হামলার সম্ভাবনার কথা বলেছেন তিনি। এই বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে কারাকাসে বিস্ফোরণের কোনও যোগ রয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

তবে কোথায় বিস্ফোরণ হয়েছে শুরুতে তার সঠিক অবস্থান স্পষ্ট ছিল না। পরে জানা গিয়েছে কারাকাসজুড়ে এই হামলা হয়েছে।

গত সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোর জন্য ব্যবহৃত একটি ডকিং এলাকা লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। তাতেই মাদক পাচারকারী নৌকাগুলি ধ্বংস হয়েছে। তবে, এই অভিযান সামরিক নাকি সিআইএ-র উদ্যোগ ছিল, অথবা আক্রমণটি কোথায় হয়েছিল, সে সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিছু বলতে রাজি হননি। কেবল ট্রাম্প বলেছিলেন যে, আক্রমণটি "উপকূল বরাবর" হয়েছিল।

এই ধরণের আক্রমণ ভেনিজুয়েলার মাটিতে প্রথম স্থল হামলা।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গত সোমবারের হামলাটি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি, তবে বৃহস্পতিবার বলেছেন যে- কয়েক সপ্তাহের মার্কিন সামরিক চাপের পর তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।

ট্রাম্প প্রশাসন, মাদুরোকে মাদক চক্রের প্রধান বলে অভিযুক্ত করেছে। বলেছেন যে, আমেরিকা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। যদিও ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট তথা বামপন্থী নেতা (মাদুরো) মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তাঁর কথায়, ওয়াশিংটন তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছে কারণ ভেনিজুয়েলায় প্রচুর তেল মজুত রয়েছে। 

ওয়াশিংটন, ভেনিজুয়েলার আকাশসীমা অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করেছে। একানেই থেমে না থেকে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন প্রশাসন ভেনিজুয়েলার তেল বোঝাই ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়ে কারাকাসের উপর চাপ বাড়িয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প এই অঞ্চলের মাদক চক্রের উপর স্থল হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন এবং বলেছেন যে এগুলো (হামলা) "শীঘ্রই" শুরু হবে। মনে করা হচ্ছে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির  প্রথম ও স্পষ্ট উদাহরণ ছিল সোমবারের বিস্ফোরণ।

সেপ্টেম্বর মাস থেকে মার্কিন বাহিনী ক্যারিবীয় সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর উভয় স্থানেই অসংখ্য নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের মতে মাদক পাচারকারী। তবে, এই হামলার লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল- এমন কোনও প্রমাণ মার্কিন প্রশাসন দেয়নি। ফলে এই অভিযানগুলোর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, এই প্রাণঘাতী আন্তত ৩০টি সামুদ্রিক অভিযানে ন্যূনতম ১০৭ জন নিহত হয়েছেন।