আজকাল ওয়েবডেস্ক: সংসারের টানাপোড়েন বা পরকীয়া নিয়ে বিবাদের কথা আমরা প্রায়ই শুনি, কিন্তু থাইল্যান্ডের এক দম্পতি যা ঘটিয়েছেন তা কল্পনাকেও হার মানায়। নিজের পুলিশ অফিসার স্বামীর পরকীয়া হাতেনাতে ধরার পর, স্ত্রী তাঁকে ডিভোর্স দেওয়ার বদলে এক অদ্ভুত প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রেমিকা চাইলে প্রতি মাসে ৩০ হাজার বাথ (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫ হাজার টাকা) 'ভাড়া' বা লিজের বিনিময়ে তাঁর স্বামীকে নিজের কাছে রাখতে পারেন। থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় টিভি শো 'হোন-ক্রাসায়ে'-তে এই অবিশ্বাস্য কাহিনি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে।

খুন কোয়াং নামের ওই মহিলা জানান, তাঁদের ১০ বছরের সাজানো সংসার ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তাঁর স্বামীর আচরণ বদলে যেতে শুরু করে। গভীর রাতে বাড়ি ফেরা এবং ফোন এড়িয়ে চলায় সন্দেহ দানা বাঁধে কোয়াংয়ের মনে। শেষমেশ দিনে ১০ হাজার বাথ খরচ করে একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ নিয়োগ করেন তিনি। মাত্র এক দিনেই গোয়েন্দা রিপোর্ট হাতে আসে—দেখা যায় তাঁর স্বামী রামখামহেং এলাকায় অন্য এক মহিলার সঙ্গে থাকছেন।

তীব্র উত্তেজনার মাঝে কোয়াং যখন সেই প্রেমিকার মুখোমুখি হন, তখন বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই মহিলা জানতেন যে লোকটির স্ত্রী এবং আট বছরের সন্তান রয়েছে, তাও তিনি এই সম্পর্ক চালিয়ে গেছেন। তবে কোয়াং যখন শর্ত দেন যে আলাদা হতে হলে সংসারের সমস্ত ঋণের দায়িত্ব ওই প্রেমিকাকে নিতে হবে, তখন তিনি পিছিয়ে যান। এদিকে স্বামীও বাড়িতে ফিরে কান্নাকাটি শুরু করেন যে তিনি প্রেমিকাকে ভুলতে পারছেন না।

বিরক্ত এবং মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে কোয়াং তখন এই 'ভাড়া' দেওয়ার প্রস্তাবটি দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ডিভোর্স তিনি দেবেন না, তবে প্রেমিকা চাইলে টাকা দিয়ে স্বামীকে নিজের কাছে রাখতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই প্রেমিকা এই চুক্তিতে রাজি হয়ে যান এবং জানান যে টাকার কোনও  সমস্যা নেই। যদিও স্বামী নিজে এই লিজ চুক্তিতে সায় দেননি।

তবে এই বিচিত্র সমাধান আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গেছে। থাইল্যান্ডের আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সে দেশের একগামী বিবাহ আইন অনুযায়ী এই ধরণের "স্বামী-ভাড়া চুক্তি" সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বর্তমানে কোয়াং ওই প্রেমিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এবং আইনি পথেই নিজের সম্মান ফিরে পেতে লড়ছেন।