আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধরুন আপনি বাড়ি তৈরি করার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে হোম লোন নিলেন। কিন্তু দেখলেন এক পয়সা সুদ দিতে হচ্ছে না। আবার ধরুন আপনি ব্যাঙ্কে টাকা রাখলেন, দেখলেন সুদ তো পেলেনই না উল্টে হয়তো টাকা জমিয়ে রাখার জন্য ব্যাঙ্ককে একটা নির্ধারিত টাকা দিতে হচ্ছে। কেমন হবে বলুন তো?
সাধারণত ব্যাঙ্ক থেকে টাকা নিলে সুদ দিতে হয় আর ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে সুদ পাওয়া যায়। কিন্তু ডেনমার্ক, জাপান বা সুইৎজারল্যান্ডের মতো বেশ কিছু দেশগুলিতে সেই চিরাচরিত নিয়ম বদলে গিয়েছে। ডেনমার্কে একসময় বাড়ির লোনে সুদ ছিল প্রায় শূন্য। কখনও কখনও তা শূন্যের চেয়ে আরও নীচে নেমেছে। সুইৎজারল্যান্ডে কিছু ব্যাঙ্ক উল্টে টাকা রাখার জন্য ভাড়া নিয়েছে। মানে, সেভিংস রাখলেই খরচ করতে হয়েছে। জার্মানির সরকার এমন বন্ড দিয়েছে, যেখানে সেভিংসে যথেষ্ট কম টাকা সুদ ফেরত পাওয়া যাচ্ছে। তবুও মানুষ বিনিয়োগ করেছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তার জন্য।
কিন্তু কেন এমন করা হয়? আসলে যখন অর্থনীতির গতি কমে যায়, ধীর হয়ে যায় অর্থাৎ মানুষ খরচ কম করে তখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক চায়, বাজারে টাকা ঘোরাফেরা করুক, এক জায়গায় থমকে যেন না থাকে। ফলে তারা সেভিংসে অনেক কম সুদের ব্যবস্থা বা একেবারেই সুদের ব্যবস্থা রাখে না। উল্টোদিকে ঋণ নিলে সুদের হারও কমিয়ে দেয়। ফলে মানুষ খরচ করতে ঋণ তুলতে পারেন এবং সেভিংস রাখতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন।
কেন্দ্রের ভাবনায় এইভাবে হয়তো মানুষের মধ্যে খরচের হার বাড়ানোও সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে সবসময় তা হয় না। সাধারণ মানুষ সরাসরি এই সুবিধা পায় এমনটা নয়। ব্যাঙ্ক নানা গুপ্ত চার্জ বসিয়ে দেয়। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের নিরাপত্তাকে বেশি জোর দেন। ব্যাঙ্কের সেভিংস ভাঙতে চান না তাঁরা। ফলে অনেকক্ষেত্রেই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ কার্যকরী হয়ে ওঠে না।
এই নীতি দীর্ঘকালীন চলে এমনটা নয়। কখনও কখনও দেশের অর্থনীতি দাবি করে এই নীতি প্রয়োগ করার জন্য। দেশের অর্থনীতি আবারও সচল হলে আবারও স্বাভাবিক হয়ে যায় সমস্ত ব্যাঙ্কের নীতি।















