আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্চ মাসের শেষ দিকে কিউবার বিদ্যুৎ সংকটের মাঝে এক ঝলক স্বস্তির বার্তা নিয়ে মাতানজাস বন্দরে ভিড়েছে রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ ‘আনাতোলি কোলোডকিন’। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ১ লাখ টন জ্বালানি তেল নিয়ে জাহাজটি গত ৩০শে মার্চ কিউবার উপকূলে পৌঁছেছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের মুখে থাকা কিউবার বর্তমান জ্বালানি বিপর্যয় কাটাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো।
রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, কিউবার জনগণের এই চরম দুর্দশার সময়ে রাশিয়া হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে কিউবার পাশে দাঁড়ানোকে নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে ক্রেমলিন। একই সুরে কথা বলেছেন কিউবায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভিক্টর করোনেলি। তিনি এই তেল সরবরাহকে ‘মানবিক সহায়তা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন চাপ ও হুমকির মুখেও রাশিয়া কিউবাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, এই জাহাজটির কিউবার বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে। যদিও অতীত এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়টিকে অনেকটা হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিউবার বর্তমান সরকার প্রায় পতনের মুখে, তাই এখন কেউ তাদের এক জাহাজ তেল দিলে তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা কিছু যায় আসে না। তার মতে, টিকে থাকার জন্য কিউবার এই সহায়তার প্রয়োজন ছিল এবং এতে তিনি বাধা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি।
তবে কিউবার সরকারি পর্যায়ে এই জাহাজের আগমন নিয়ে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, যদিও দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবরটি নিশ্চিত করেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ১ লাখ টন তেল দিয়ে বড়জোর সপ্তাহ দুয়েকের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান পেতে হলে কিউবাকে আবারও ওয়াশিংটনের অবরোধ ভাঙার বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।
কিউবার এই বর্তমান পরিস্থিতির মূলে রয়েছে গত ছয় দশক ধরে চলা মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কিউবার জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করে। গত ৩১শে জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আদেশের মাধ্যমে কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অস্বাভাবিক হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং দেশটিকে তেল সরবরাহকারী যেকোনও রাষ্ট্রের ওপর ২০ শতাংশ নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন। নিজস্ব তেল খনি বা বড় কোনও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র না থাকায় কিউবা এখন পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে নিয়মিত লোডশেডিং, অস্ত্রোপচার বন্ধ হওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার মতো মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মেক্সিকো কিউবাকে তেল দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের কোনও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেখা যায়নি। এই অবস্থায় রাশিয়ার এই সাময়িক সহায়তা দ্বীপরাষ্ট্রটিকে কতটুকু স্বস্তি দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।















