আজকাল ওয়েবডেস্ক: পিটুফিক স্পেস বেস হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরতম সামরিক ঘাঁটি, যা গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত। এটি মূলত মার্কিন স্পেস ফোর্স কর্তৃক পরিচালিত একটি কৌশলগত ঘাঁটি যেখানে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা এবং আর্কটিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত অত্যাধুনিক সিস্টেম স্থাপিত রয়েছে। এটি গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একমাত্র ঘাঁটি। ঘাঁটিটি পূর্বে থুলি এয়ার বেস নামে পরিচিত ছিল এবং ২০২৩ সালে এর নাম পরিবর্তন করা হয়। 


পিটুফিক স্পেস বেস উত্তর আর্কটিক সার্কেল থেকে প্রায় ৭৫০ মাইল উত্তরে এবং উত্তর মেরু থেকে প্রায় ৯৪৭ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে উত্তরের গভীর জল বন্দরের ঠিক পাশেই রয়েছে এবং এর একটি বড় রানওয়ে আছে যা সারাবছর বিমান চলাচলের জন্য খোলা থাকে। 


পিটুফিক স্পেস বেসের ইতিহাস ডাঙ্গার সাথে যুক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডেনমার্ক যখন নাজি জার্মানদের দ্বারা দখল ছিল, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি শুরু করে। এরপর ১৯৫১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে এক প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়, যার অধীনে মার্কিন সেনাবাহিনী থুলি এয়ার বেস স্থাপন করে। যুদ্ধের সময় এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে নজরদারি এবং উত্তরের উপকূলরক্ষা কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 


ঘাঁটিতে ১৯৬১ সালে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল অ্যালার্ম ওয়ার্নিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়, যা উত্তর আমেরিকার উপর থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রকে দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এটি উত্তর আমেরিকার ন্যাশনাল ডিফেন্স সিস্টেমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


কৌশলগত অবস্থান: পিটুফিক বেস আর্কটিক সার্কেলের খুব উত্তরে অবস্থিত হওয়ায় এটি মহাদেশগুলোর মধ্যকার উত্তরের আকাশপথ ও মহাকাশের পর্যবেক্ষণে একটি অসাধারণ সুবিধা দেয়। 


ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা: এই ঘাঁটিতে স্থাপিত রাডার ও সেন্সরগুলো দিয়ে দক্ষভাবে ব্যালিস্টিক মিসাইলের উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়, যা উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


মহাকাশ নজরদারি: স্পেস ফোর্সের আওতায় থাকায় ঘাঁটিটি কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশ ধ্বংসাবশেষ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে তথ্য সরবরাহ করে। 


আর্কটিক জলপথ : বিশ্বের বরফ গলে যাওয়ার সাথে সাথে নতুন সমুদ্রপথ ও কৌশলগত এলাকা খুলছে, যা রাশিয়া, চীনসহ অন্য শক্তিধর দেশগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি করছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পিটুফিক বেস যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও নজরদারি কেন্দ্র হয়ে উঠছে। 


গ্রিনল্যান্ড এখন ডেনমার্কের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। কিন্তু মার্কিন উপস্থিতি এবং ঘাঁটির ইতিহাস স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিরোধ এবং পরিবেশগত উদ্বেগও সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কোল্ড ওয়ার যুগে কিছু বিতর্কিত কার্যক্রম ও স্থানীয়দের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা আজও স্মরণীয়। 

 


পিটুফিক স্পেস বেস শুধুমাত্র একটি সামরিক ঘাঁটি নয়, এটি একটি কৌশলগত কেন্দ্র যা আর্কটিকের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশ, মহাকাশ নিরাপত্তা ও উত্তর আমেরিকার প্রতিরক্ষা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।