আজকাল ওয়েবডেস্ক: রমজানের মাঝেই মৃত্যুমিছিল। রমজানের মাঝেই পরপর হামলা পাকিস্তানের। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চলাইয়েছে। তাতে মৃত্যু হয়েছে একাধিকজনের।
সূত্রের খবর, হামলা চালিয়েছে মূলত পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)। আফগানিস্তানে অবস্থিত সন্ত্রাসী শিবিরগুলিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছিল বলে, একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে তথ্য তেমনটাই। জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী অন্তত সাতটি জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। এই হামলায় আফগানিস্তানের বহু সাধারণ নাগরিক আহত এবং নিহত হয়েছেন বলে তথ্য।
আফগান সরাকারের মতে, নিহত হয়েছেন অন্তত কয়েক ডজন মানুষ। এই প্রসঙ্গে ইতিমধ্যে সামনে এসেছে পাক মন্ত্রকের বিবৃতি। তাতে জানানো হয়েছে, কীভাবে চালানো হয়েছে এই হামলা। পাক মন্ত্রক জানাচ্ছে, গোয়ান্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাক-আফগান সীমান্তের ওই জঙ্গিঘাঁটি চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেখানেই স্পষ্ট, ইসলামাবাদের মসজিদে হামলার প্রত্যাঘাত হামলা পাকিস্তানের। ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান যেসব জায়গায় হামলা চালিয়েছে, সেখানে বসেই মসজিদের আত্মঘাতী হামলা-সহ একাধিক হামলার ছক কষা হয়েছিল।
হামলা প্রসঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগান তালেবান সরকারকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বারবার অনুরোধ করার সত্ত্বেও, আফগান তালেবান সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনও বাস্তব পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সঙ্গেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'পাকিস্তান সবসময় এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু একইসঙ্গে, আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়ায়, পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত অঞ্চলে FAK এবং এর সহযোগী সংগঠন এবং ISKP-এর সাতটি সন্ত্রাসী শিবির এবং আস্তানাকে গোয়েন্দা তথ্য-ভিত্তিক নির্বাচনী লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়েছে।'
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনা প্রসঙ্গে পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি জানিয়েছেন, 'গত রাতে, তারা নাঙ্গারহার এবং পাকটিকা প্রদেশে আমাদের বেসামরিক দেশবাসীর উপর বোমা হামলা চালিয়েছে। নারী এবং শিশু-সহ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত বহু।'
কাবুলের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করাকে তাদের ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব বলে মনে করে এবং সতর্ক করে দিয়েছে যে সঠিক সময়ে একটি উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখা হয়েছে, 'বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং ধর্মীয় কেন্দ্রগুলিতে আক্রমণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ, এবং এই ধরনের বারবার আগ্রাসন কখনও তাদের অভ্যন্তরীণ ত্রুটিগুলি গোপন করতে পারবে না।'
