আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের শাঁখের করাত দশা। একদিকে তথৈবচ অর্থনৈতিক হাল এবং অন্যদিকে বিপুল দেনা শোধ করার সময়সীমা। নাকানিচোবানি খাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৭ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা) ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধের দাবি জানিয়েছে। সেই দেনা শোধ হবে কীভাবে? পাক অর্থমন্ত্রী মহম্মদ ঔরঙ্গজেব জানিয়েছেন, আকাশছোঁয়া তেলের দামের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ভাণ্ডার বজায় রাখতে দেশ এবং অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে টাকা ধার নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ব্লুমবার্গ নিউজ সূত্রকে উদ্ধৃত করে তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে পাকিস্তান চীন এবং সৌদি আরবের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা করছে। যদিও ঔরঙ্গজেব এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এপ্রিলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি গত সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার আমিরাশাহির সঙ্গে নতুন ঋণের চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে যখন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে দেশীয় অর্থনীতি তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সোমবার ওয়াশিংটনে ব্লুমবার্গকে ঔরঙ্গজেব বলেন, “আমাদের যা কিছু জোগান দিতে হবে, তা বাণিজ্যিক বিকল্প এবং দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতা-সহ বিভিন্ন উৎসের সমন্বয়ে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সব বিকল্পই খতিয়ে দেখছি।” তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।
২৭ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের পরিমাণ ছিল ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার। যা দিয়ে প্রায় তিন মাসের আমদানিতে ব্যয় করা সম্ভব। ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের উপর আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার আগে পাকিস্তানের রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার শক্তিশালী তহবিল ছিল বলেই দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি ঋণদাতাদের ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে দেশের ক্ষমতার উপর আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, “আমরা ঋণ পরিশোধ করতে এবং আমাদের রিজার্ভ সঠিক জায়গায় রাখার জন্য অন্যান্য সংস্থান উপলব্ধ আছে তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
অর্থমন্ত্রী এই সপ্তাহে অন্যান্য অর্থনীতির প্রধান ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের সঙ্গে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশিংটনে রয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আগে, বিশ্ব বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আলোচ্য বিষয় থাকত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাতের প্রভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট বড় ধরনের তেল ও সরবরাহ সঙ্কটই আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তান আশা করছে যে, ৭ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট কর্মসূচি থেকে সর্বশেষ কিস্তি অনুমোদনের জন্য আইএমএফ শীঘ্রই বৈঠকে বসবে। তথাকথিত ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফেসিলিটি’ থেকে প্রাপ্ত অর্থ যোগ হলে, এই কিস্তির মাধ্যমে দেশটি প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাবে।
















