আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, তাকে চিরস্থায়ী বলেই মনে হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় কেউ ভাবেন না—আগামীকালও কি অক্সিজেন থাকবে? কিন্তু নাসার সহায়তায় টোহো ইউনিভার্সিটি ও জর্জিয়া টেকের গবেষকদের নতুন এক গবেষণা বলছে, পৃথিবীর অক্সিজেনসমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল আসলে গ্রহটির ইতিহাসে একটি সাময়িক অধ্যায়—চূড়ান্ত নয়।
পৃথিবীর জলবায়ু, রসায়ন ও জীবনের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে গবেষকরা একটি উন্নত আর্থ সিস্টেম মডেল ব্যবহার করেছেন এবং ৪ লক্ষেরও বেশি কম্পিউটার সিমুলেশন চালিয়েছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, আজকের মতো অন্তত বর্তমান স্তরের ১ শতাংশ অক্সিজেন বজায় রাখতে পারবে পৃথিবী গড়ে প্রায় ১০৮ কোটি বছর। এই সময়সীমা গড়ে ১.০৮ বিলিয়ন বছর হলেও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এর পর পরিবর্তন হবে দ্রুত—ভূতাত্ত্বিক সময়ের মানদণ্ডে। মডেল বলছে, একবার ডিঅক্সিজেনেশন বা অক্সিজেন হ্রাসের প্রক্রিয়া শুরু হলে, বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন হঠাৎ করেই নেমে যাবে সেই স্তরে, যা ছিল গ্রেট অক্সিডেশন ইভেন্টের আগের পৃথিবীতে। সে সময় পৃথিবী ছিল মূলত অক্সিজেনবিহীন, যেখানে অক্সিজেন ব্যবহার না করা অণুজীবই আধিপত্য করত।
এই সুদূর ভবিষ্যতের পরিবর্তনের পেছনে কারণ কোনও দূষণ, বন উজাড় বা মানব কর্মকাণ্ড নয়। মূল চালিকা শক্তি হলো সূর্যের ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা। কয়েকশো মিলিয়ন বছরে সূর্যের বিকিরণ বাড়তে থাকলে, পৃথিবীর দীর্ঘমেয়াদি কার্বন চক্রে বড় পরিবর্তন আসে।
বেশি সূর্যালোক শিলার রাসায়নিক ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে, যার ফলে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সরতে থাকে। কার্বন ডাই-অক্সাইড কমে গেলে উদ্ভিদের পক্ষে কার্যকরভাবে আলোকসংশ্লেষ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে ধীরে ধীরে বিশ্বের অক্সিজেন উৎপাদন কমতে শুরু করে।
প্রথমে এই পতন হবে ধীরগতির। কিন্তু একসময় সিস্টেম একটি সংকটসীমা অতিক্রম করবে। তখন খুব দ্রুত পৃথিবী এক অক্সিজেন অভাবের অবস্থায় চলে যাবে, যেখানে অক্সিজেন-নির্ভর উদ্ভিদ ও প্রাণীর পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব হবে।
শুনতে নাটকীয় লাগলেও, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ ঘটবে এমন এক সময়সীমায় যা মানব ইতিহাসের তুলনায় অতিকায়। আধুনিক মানুষ পৃথিবীতে আছে মাত্র প্রায় তিন লক্ষ বছর। কৃষি শুরু হয়েছে মাত্র দশ হাজার বছর আগে। এক বিলিয়ন বছরের কাউন্টডাউনের পাশে আমাদের পুরো সভ্যতা সময়রেখার ক্ষুদ্রতম একটি অংশ মাত্র।
এই গবেষণা আমাদের সতর্ক করছে না যে আগামী প্রজন্ম শ্বাস নিতে পারবে না। বরং এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে—একটি “বাসযোগ্য” গ্রহও সময়ের সঙ্গে বদলায়, এবং জীবনের জন্য অনুকূল পরিবেশ চিরকাল স্থায়ী নয়।
