আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওরাকল (Oracle) সংস্থায় ফের বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে। সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০,০০০ কর্মীকে ইতিমধ্যেই কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এই বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি। তবে উদ্বেগের বিষয় হল, আগামী এক মাসের মধ্যে আবারও এক দফা গণ-ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে তারা। 

ভারতে পরিস্থিতি বেশ আশঙ্কাজনক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে কর্মরত মোট ৩০,০০০ কর্মীর মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১২,০০০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সংস্থার মানবসম্পদ (HR) বিভাগের এক কর্মীসহ ছাঁটাইয়ের কবলে পড়া দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় কোপ পড়তে চলেছে আরও অনেক কর্মীর ওপর। যদিও এই পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও  মন্তব্য করেনি ওরাকল কর্তৃপক্ষ।

সংস্থার পক্ষ থেকে কর্মীদের পাঠানো একটি ইমেলে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ কিছু সাংগঠনিক পরিবর্তনের কারণে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। ‘অপারেশনাল স্ট্রিমলাইনিং’ বা কাজের গতিপ্রকৃতি আরও উন্নত ও সংহত করার লক্ষ্যেই বর্তমানে বহাল থাকা অনেক পদকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বা রিডান্ডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 

যাঁরা কাজ হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য একটি প্যাকেজ বা সেভারেন্স প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থা। নিয়ম অনুযায়ী, ভারতে এক বছরের বেশি কাজ করা কর্মীদের ১৫ দিনের বেতনের পাশাপাশি টার্মিনেশন তারিখ পর্যন্ত এক মাসের বকেয়া বেতন, লিভ এনক্যাশমেন্ট, গ্র্যাচুইটি এবং এক মাসের নোটিশ পিরিয়ডের বেতন দেওয়া হবে। এছাড়াও ‘টপ-আপ’ হিসেবে অতিরিক্ত দু'মাসের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুযোগ শুধুমাত্র তাঁরাই পাবেন যাঁরা স্বেচ্ছায় এবং কোনও  আইনি জটিলতা ছাড়াই পদত্যাগ করবেন।

এদিকে, এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ওরাকলের প্রাক্তন কর্মী মেরুগু শ্রীধর অভিযোগ করেছেন যে, ১৬ ঘণ্টার হাড়ভাঙা খাটুনির প্রতিবাদ করায় গত সেপ্টেম্বর মাসেই তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অনেক ভারতীয়ও এই ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। কারণ সেখানকার কঠোর শ্রম আইনের ফলে মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় বিদেশি বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মীদের ছাঁটাই করা সংস্থার জন্য তুলনামূলক সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাপক ছাঁটাইয়ের খবরে এখন আতঙ্ক ছড়িয়েছে আইটি সেক্টরের অন্দরে।