তুঙ্গে উঠবে আদর! এবার রাতের 'ইনিংস' আরও ঝোড়ো করতে বাজারে আসছে 'প্রোটিন কন্ডোম'
নিজস্ব সংবাদদাতা
১ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ : ২৮
শেয়ার করুন
1
5
ভারতবর্ষের ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রিতে প্রোটিন পাউডার বা ক্রিয়েটিন বিক্রির হাজারো কায়দা আমরা দেখেছি, কিন্তু এবার যা ঘটল তা সম্ভবত অতি বড় রসিক মানুষের কল্পনাকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। গত ২৯শে মার্চ ভারতীয় সাপ্লিমেন্ট ব্র্যান্ড ‘বিস্ট লাইফ’ (Beast Life) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অদ্ভুত ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। তাদের দাবি, তারা বাজারে নিয়ে আসছে বিশ্বের প্রথম ‘প্রোটিন কনডম’। ইনস্টাগ্রামে এই ঘোষণা দিয়ে তারা ক্যাপশনে লিখেছে, “আপনার রাতের পারফরম্যান্সকে আপগ্রেড করতে আমরা আসছি।” পোস্টটি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ বিস্ময় আর হাসিতে ফেটে পড়েন।
2
5
এই ‘বিস্ট লাইফ’ ব্র্যান্ডটি ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জনপ্রিয় ইউটিউবার গৌরব তানেজা, যাকে আমরা ‘ফ্লাইং বিস্ট’ নামে চিনি, এবং তার সাথে রয়েছেন রাজ বিক্রম গুপ্ত। আইআইটি খড়গপুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র থেকে পাইলট, আর তারপর সফল ইউটিউবার এবং ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া গৌরবের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। তার ব্র্যান্ড মূলত সাহস আর নিরন্তর লড়াইয়ের মন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু প্রোটিন পাউডারের বাজার থেকে হুট করে যৌন স্বাস্থ্য সচেতনতার পথে এই ভোলবদল কেউ সহজভাবে নিতে পারেননি। মজার বিষয় হল, কোম্পানিটি এই পণ্যের উপাদানের তালিকা, দাম বা কবে বাজারে আসবে সে সম্পর্কে কোনও তথ্যই দেয়নি। শুধু এক লাইনের একটি চটকদার কথা বলেই তারা ক্ষান্ত থেকেছে।
3
5
ইন্টারনেট দুনিয়ায় এর প্রতিক্রিয়াও হয়েছে বেশ মজার। কেউ মন্তব্য করেছেন, “এটা কি হোয়ে আইসোলেট নাকি রেগুলার?” আবার কেউ লিখেছেন, “অস্তিত্বহীন সমস্যার এক উদ্ভাবনী সমাধান।” তবে রসিকতার আড়ালে বড় এক সন্দেহ উঁকি দিচ্ছে। ২৯শে মার্চ এই ঘোষণার ঠিক দুই দিন পরেই পয়লা এপ্রিল অর্থাৎ ‘এপ্রিল ফুল ডে’। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এটি আসলে ব্র্যান্ড প্রচারের জন্য একটি পরিকল্পিত মজা বা প্র্যাঙ্ক। মানুষ ভাবছে, ১লা এপ্রিলে হয়তো কোম্পানিটি আসল রহস্য ফাঁস করবে। এর আগে শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েও ‘বিস্ট লাইফ’ ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে তাদের ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছিল, তাই নজর কাড়ার এই কৌশল অস্বাভাবিক কিছু নয়।
4
5
বর্তমানে ভারতে প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের বাজার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে এই বাজার ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং ২০৩৩ সাল নাগাদ তা ২.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে মানুষের নজরে থাকতে গেলে মাঝেমধ্যেই এমন বিচিত্র প্রচারণার প্রয়োজন হয়। এর আগে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো বেকন, হুইস্কি বা চিকেন টিক্কা মাসালা ফ্লেভারের কনডম এনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আসলে যেসব পণ্য নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলতে মানুষ কিছুটা জড়তা বোধ করে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্ভট প্রচারণা বেশ কাজ করে।
5
5
শেষ পর্যন্ত এই ‘প্রোটিন কনডম’ কি আসলেও দোকানে পাওয়া যাবে নাকি এটি পয়লা এপ্রিলের নিখাদ কৌতুক, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে আসল লক্ষ্য পূরণ হয়ে গেছে। কোনও বিজ্ঞাপন খরচ ছাড়াই ‘বিস্ট লাইফ’ এখন মানুষের মুখে মুখে। ১লা এপ্রিল যদি তারা একে মজা বলে উড়িয়ে দেয়, তবে আলোচনার নতুন ঢেউ উঠবে। আর যদি সত্যিই এমন অদ্ভুত কিছু বাজারে আসে, তবে ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রি যে চিরতরে বদলে যাবে—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আপাতত সবাই উৎসুক হয়ে দিন গুনছেন আসল সত্যটি জানার জন্য।