আজকাল ওয়েবডেস্ক: কয়েক দশক ধরে, পারমাণবিক সংঘাতকে ঘিরে সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রশ্নগুলির মধ্যে একটি হল, পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা কোনটি হবে? যদিও কোনও অঞ্চলই একটি বিশ্ব বিপর্যয়ের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয়। তবে, গবেষকরা বলছেন দু’টি দ্বীপরাষ্ট্র বাকিদের থেকে আলাদা।
২০২২ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, পারমাণবিক যুদ্ধের পর যদি পারমাণবিক শীতকাল আসে, তবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডকে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই ফলাফলের মূল কারণ হল দেশ দু’টির দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং শক্তিশালী খাদ্য ব্যবস্থা। পারমাণবিক অস্ত্র প্রথম তৈরি হওয়ার পর থেকেই বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কেমন হতে পারে তা খতিয়ে দেখছেন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ অঞ্চল এবং দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নগুলি সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্টিভেন্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির পারমাণবিক ইতিহাসবিদ এবং নিউকম্যাপ সিমুলেটরের নির্মাতা অধ্যাপক অ্যালেক্স ওয়েলারস্টেইন ব্যাখ্যা করেছেন যে, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করবে কারা হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, তার ওপর।
অধ্যাপক ওয়েলারস্টাইন ডেইলি মেইলকে বলেন, “যদি প্রতিপক্ষ রাশিয়া হয় এবং তাদের লক্ষ্য হয় মার্কিন প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা অকার্যকর করা, তাহলে প্রথমে কমান্ড সেন্টার ও আইসিবিএম সাইটগুলিতে আঘাত হানা হবে। যদি হামলাকারীর অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে এর পরিবর্তে প্রতীকী বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিকে নিশানা করা হতে পারে।”
দ্য মিরর-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, তাঁর মূল্যায়নে কৌশলগত গুরুত্বের কারণে মন্টানার গ্রেট ফলসের মতো স্থানগুলিকে আমেরিকার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলির মধ্যে রাখা হয়েছে। যদিও পারমাণবিক হামলার তাৎক্ষণিক ধ্বংসযজ্ঞ ভয়াবহ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর চেয়েও বড় হুমকি হল, হামলার পরবর্তীতে পারমাণবিক শীতকাল। এই জলবায়ুগত ঘটনাটি সূর্যালোক আটকে দিতে পারে, তাপমাত্রা তীব্রভাবে কমিয়ে দিতে পারে এবং পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশে ব্যাপক কৃষি বিপর্যয় ঘটাতে পারে। অ্যানি জ্যাকবসেন যেমন বলেছেন, “কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, আর কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মানুষ মারা যায়। এর উপর রয়েছে তেজস্ক্রিয়তার বিষক্রিয়া, কারণ ওজোন স্তর এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যাবে যে আপনি সূর্যের আলোতে বাইরে থাকতে পারবেন না। মানুষ মাটির নীচে বাস করতে বাধ্য হবে।”
‘দ্য মিরর’-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকার প্রশ্নটিই অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। ২০২২ সালের একটি বিশ্লেষণে ভৌগোলিক অবস্থান, খাদ্য উৎপাদন, অবকাঠামো, শক্তির প্রাপ্যতা এবং সামাজিক স্থিতিস্থাপকতার মতো বিষয়গুলো ব্যবহার করে ৩৮টি দ্বীপরাষ্ট্রের তুলনা করা হয়েছিল। ‘দ্য মিরর’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গবেষকরা দেখেছেন যে এই দু’টি দক্ষিণ গোলার্ধের দেশই এই ধরনের সঙ্কট মোকাবিলা করার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী।
উভয় দেশের জন্যই সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল তাদের ভৌগোলিক অবস্থান। যেহেতু পারমাণবিক হামলার সম্ভাব্য নিশানা এবং বায়ুমণ্ডলে ধোঁয়া ছড়ানোর মতো আগুন উত্তর গোলার্ধেই কেন্দ্রীভূত। তাই অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তুলনামূলকভাবে কম সরাসরি ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।
গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অস্ট্রেলিয়ার ‘অতিরিক্ত কয়েক কোটি মানুষকে খাওয়ানোর সম্ভাবনা’ রয়েছে। নিউজিল্যান্ডেরও একই ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। গবেষণাটি থেকে বোঝা যায়, একটি ভয়াবহ পারমাণবিক শীতকালে ফসলের ফলন তীব্রভাবে কমে গেলেও দেশটি তার জনসংখ্যার খাদ্যের জোগান দিতে সক্ষম হবে।
এই সুবিধাগুলো থাকা সত্ত্বেও, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়। উভয় দেশই জ্বালানি, সার এবং যন্ত্রপাতির জন্য এখনও বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।














