আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইসলামাবাদের প্রতি বেশ গদগদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যা বেশ বিস্ময়ের। এবার পাকিস্তানের প্রতি অতি-সদয়ের জেরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বার্তা দিলেন তাঁরই রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস সদস্য রিচ ম্যাককর্মিক। মার্কিন অর্থনীতিতে পাকিস্তানের অবদানের পরিসংখ্যানও আয়না হিসাবে তুলে ধরেছেন ম্যাককর্মিক। অত্যন্ত জোরের সঙ্গে এই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যের দাবি, ভারতকে বিচ্ছিন্ন করা "আমাদের সবার জন্য বড় সমস্যার" হবে।
শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক যখন চাপের মুখে পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে ম্যাককর্মিক বলেন, "পাকিস্তান ৩০০ মিলিয়ন মানুষের একটি দেশ। কিন্তু আপনি দেখবেন না যে তারা আমেরিকায় বিনিয়োগ নিয়ে আসছে। ভারত শুধু বিনিয়োগ গ্রহণই করে না, বরং তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগও করে।"
এই রিপাবলিকান নেতা আরও বলেন, "মেধা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এবং ভারত প্রচুর পরিমাণে মেধা সরবরাহ করছে। শুধু প্রতিভাবান মানুষ রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বরং তারা যে শূন্যস্থান পূরণ করছে, সেদিক থেকেও।"
গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প, ভারতকে দূরে সরিয়ে পাকিস্তানের প্রতি ঝুঁকেছেন, অথচ পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তবে, ট্রাম্প সম্প্রতি পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়ে ইসলামাবাদকে একটি কঠোর বাস্তবতার মধ্যে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ম্যাককর্মিকের মন্তব্যের সঙ্গে যোগ করে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য তথা ডেমোক্র্যাট নেতা আমি বেরা, যিনিও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জোর দিয়ে বলেন যে- এই উষ্ণ সম্পর্ক সত্ত্বেও মার্কিন কোম্পানিগুলো পাকিস্তানে বিনিয়োগ করছে না।
ডেমোক্র্যাট নেতা বেরা বলেন, "আমেরিকা পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও কৌশলগত অংশীদারিত্ব তৈরি করছে না। আমেরিকান কোম্পানিগুলো পাকিস্তানে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে না। এই সবকিছু ভারতেই ঘটছে।"
'ভারত এখনও রাশিয়ান তেল কিনছে, এটা যুক্তরাষ্ট্র অপছন্দ করে'
ট্রাম্প দ্বিতীবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে। ওয়াশিংটন, রাশিয়ান তেল কেনার জন্য নয়াদিল্লির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, ফলে মোট শুল্ক বেড়ে দঁড়ায় ৫০ শতাংশে। হোয়াইট হাউস বলেছিল যে, এই রাজস্ব মস্কোর- ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে টিকে থাকার উৎস। একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই বিষয়ে আলোকপাত করে ম্যাককর্মিক বলেন, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বোঝে কেন নয়াদিল্লি মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, তবুও ভারত এখনও রাশিয়ান তেল কিনছে, এটা আমেরিকা "অপছন্দ করে"। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে "অত্যন্ত জাতীয়তাবাদী" আখ্যা দিয়ে এই রিপাবলিকান নেতা বলেছেন, ভারত সস্তা জ্বালানি ব্যবহার করে তার অর্থনীতিকে প্রসারিত করার জন্য রাশিয়ান তেল কিনছে। ম্যাককর্মি কথায়, "প্রধানমন্ত্রী মোদি সত্যিই অত্যন্ত জাতীয়তাবাদী। তিনি তাঁর দেশের স্বার্থ দেখছেন। ভারত যখন সস্তা রাশিয়ান তেল কেনে, তখন আমেরিকা তা অপছন্দ করে। কিন্তু তিনি তাঁর দেশের সর্বোত্তম স্বার্থেই এটা করছেন"
বাণিজ্য প্রসঙ্গে
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে "সমমনা" উল্লেখ করে রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস সদস্য রিচ ম্যাককর্মিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যে "ন্যায্যতার" প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ম্যাককর্মিক বলেন, "আমরা যে শিল্প ভারতে ফিরিয়ে আনছি, আমরা ভারতীয় পণ্যের যে ব্যবহার করছি তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে সেখানে একটি ভারসাম্য থাকে।" কিছুক্ষণ থেমে তিনি রসিকতা করে বলেন, "বিবাহিত যে কেউ এটা বোঝেন।
তবে, ম্যাককর্মিকের ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভারতকে বিচ্ছিন্ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য "বড় সমস্যা" হবে। এই মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বলেন, "যদি আমেরিকা ভারতীয়দের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, তবে আমরা শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ করব। যদি আমরা তাদের থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করি, তবে তা আমাদের সবার জন্য বড় সমস্যা হবে।"
















