আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাসা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলে এক অদ্ভুত ঘটনা দেখেছে। এই রহস্যময় ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল হারিকেন হেলেন, যা সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হেনেছিল। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে, ভূমি থেকে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার ওপরে, অজানা এক ধরনের পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়েছে। 


পরবর্তীতে নাসা জানায়, এই পরিবর্তন আসলে ছিল “বায়ুমণ্ডলীয় তরঙ্গ” যা সাধারণত প্রবল আবহাওয়াজনিত ঘটনার সময় সৃষ্টি হয়। কিন্তু এত উচ্চতায় এগুলো দেখা গেছে যা শক্তিশালী ঝড়ের একটি অন্য দিক। এই তরঙ্গগুলো দেখা গেছে মেসোস্ফিয়ারে—যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তর এবং যার বিস্তার ৫০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।


এই আলো উচ্চতর বায়ুমণ্ডলে গ্যাসের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। তখন একটি ঢেউয়ের মতো প্যাটার্ন শনাক্ত করে—যা নাসার ভাষায় ছিল ঝড় থেকে ছড়িয়ে পড়া বায়ুমণ্ডলীয় তরঙ্গের প্রমাণ। নাসার গবেষকেরা জানান, হেলেনের শক্তি ভূমি থেকে এত ওপরে বায়ুকে নাড়িয়ে দিয়ে এই প্যাটার্ন তৈরি করেছে।


আরও বিস্ময়কর হল এই তরঙ্গ পশ্চিমদিকে ভ্রমণ করছিল, অর্থাৎ প্রভাব শুধু ঝড়ের এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এই ঝড় ছিল একেবারে ব্যতিক্রম। কেননা উচ্চ বায়ুমণ্ডলের ক্ষুদ্র পরিবর্তনও স্যাটেলাইটের কক্ষপথকে প্রভাবিত করতে পারে। বায়ুর ঘনত্ব সামান্য বৃদ্ধি বা কমার ফলে স্যাটেলাইট সমস্যায় পড়তে পারে বা ভুল পথে সরে যেতে পারে। তাই এই ধরনের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

&t=1486s


এই পরিস্থিতি পৃথিবীর ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে এখনও চিন্তায় রয়েছে নাসা। তবে এর প্রভাব যে খারাপের দিকেই যাবে সেকথা মনে করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। ফলে সেখান থেকে আগামীদিনে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এমনিতেই পৃথিবীতে ধীরে ধীরে বায়ুমন্ডলে পরিবর্তন ঘটছে। তবে সেখান থেকে এই ঘটনা তাকে আরও দ্রুত বাড়িয়ে তুলতে পারে। সেখানে যে কাজটি ১০০ বছরে ঘটার সেটি কমে গিয়ে ৫০ বছরেও হতে পারে।