আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) গত পাঁচ সপ্তাহে এক অজানা রোগে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। প্রথমবার এই রহস্যময় রোগটি চিহ্নিত হয় তিনটি শিশুর মধ্যে, যারা বাদুড় খেয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ১৬ ফেব্রুয়ারির হিসেব অনুযায়ী ইকুয়েটর প্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ৪৩১টি আক্রান্তের ঘটনা এবং ৫৩টি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে জানা গেছে, পশ্চিম কঙ্গোতে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১,০৯৬ হয়েছে এবং মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে।
এই রোগের সবচেয়ে ভীতিকর দিক হলো—লক্ষণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু ঘটছে। বিকোরো হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর সের্গে নগালেবাতো জানান, এই রোগের প্রাণঘাতী ক্ষমতা "অত্যন্ত উদ্বেগজনক"। প্রাথমিকভাবে জ্বর, বমি এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও লক্ষণ যুক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে—ডায়রিয়া, সারা শরীরে ব্যথা, তীব্র তৃষ্ণা এবং সন্ধি ব্যথা। কিছু প্রতিবেদন অনুসারে, শিশুরা মৃত্যুর আগে অবিরাম কান্নাকাটি, নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ এবং রক্তবমির মতো ভয়ানক অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে।
গবেষকরা প্রায় এক ডজনেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করে ইবোলা, ডেঙ্গু, মারবার্গ এবং হলুদ জ্বরের মতো মারাত্মক ভাইরাসের সংযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে রোগটির প্রকৃত উৎস ও স্বরূপ এখনও অজানা।
WHO-এর একজন মুখপাত্র জানান, "আমরা খুঁজে দেখছি এটি অন্য কোনো সংক্রমণ কিনা বা এটি কোনো বিষাক্ত উপাদানের প্রভাব কিনা। আমাদের দেখতে হবে কী করা যেতে পারে এবং WHO কবে এই বিষয়ে সহায়তা করতে পারে।"
















