আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের শান্ত শহরগুলোতে সম্প্রতি এক অদ্ভুত অথচ মজার ঘটনাকে ঘিরে তুমুল চর্চা। গভীর রাতে চুপিসারে বাড়ি বাড়ি ঢুকে মোজা, আন্ডারওয়্যার এমনকি দামি জামাকাপড় চুরি করছে… কোনও মানুষ নয়, দুইটি বিড়াল! একদিকে হ্যামিল্টন শহরের ব্রিজিট, অন্যদিকে অকল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী মাইরাঙ্গি বে এলাকার লিও,দু’জনেই এখন নিজেদের এলাকায় ‘ক্যাট বার্গলার’ হিসেবে রীতিমতো সেলিব্রিটি।
হ্যামিল্টন শহরের বাসিন্দা সারাহ ন্যাথানের ছয় বছরের টনকিনিজ জাতের বিড়াল ব্রিজিট গত দুই মাসে বাড়িতে এনে ফেলেছে অন্তত ১১ জোড়া আন্ডারওয়্যার ও ৫০টির বেশি মোজা। বিষয়টি প্রথমে পরিবারের কাছে ধরা পড়ে যখন ধোয়ার কাপড়ের মধ্যে অচেনা আন্ডারওয়্যার পাওয়া যেতে থাকে।
সারাহ জানান, “একদিন দেখি ব্রিজিট মুখে করে মোজা নিয়ে বসার ঘরে ঢুকছে, একেবারে যেন বাচ্চা বিড়াল!” পরে বুঝতে আর বাকি ছিল না যে আশপাশের কোনও বাড়ি থেকেই এই ‘সংগ্রহ’ আসছে। তাঁর অনুমান, কাছের কোনো ফ্ল্যাটে থাকা কয়েকজন পুরুষই সম্ভবত ব্রিজিটের শিকার।
ঘটনাটি সারাহ ফেসবুকে পোস্ট করতেই তা প্রায় ৫০০ বার শেয়ার হয়। পরে পরিবারের তরফে এলাকায় লিফলেটও বিলি করা হয়, যাতে প্রকৃত মালিকরা নিজেদের জিনিস চিনে নিতে পারেন। সারাহ বলেন, “নিউজিল্যান্ডে সাধারণত বিড়াল ঘরে আটকে রাখা হয় না। ব্রিজিট পাখি বা বন্যপ্রাণী শিকার করে না, তাই প্রতিবেশীরাও বেশ হাসিমুখেই বিষয়টা নিয়েছে।”
অন্যদিকে অকল্যান্ডের মাইরাঙ্গি বে এলাকায় ১৫ মাস বয়সি বিড়াল লিও তার চুরির দক্ষতার জন্য পেয়েছে নতুন নাম ‘লিওনার্দো দা পিঞ্চি’। মালিক হেলেন নর্থের বাড়িতে লিও যে সব জিনিস নিয়ে এসেছে, তার তালিকা শুনলে অবাক হতেই হয়, সিল্কের বক্সার শর্টস, মোটা কাজের মোজা, এমনকি ৩০০ নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ১৮১ মার্কিন ডলার) দামের একেবারে নতুন কাশ্মীরি সোয়েটার!
একদিন তো লিও বাড়িতে নিয়ে আসে পাঁচ ফুট লম্বা একটি খেলনা সাপ। আরেকদিন সকালে দোকান খোলার আগেই সে এনে হাজির করে একটি জার্সি। এক রেকর্ড করা দিনে সে একসঙ্গে নয়টি জিনিস চুরি করে এনেছে, শিশুদের জামা থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের পোশাক পর্যন্ত!
হেলেন জানান, প্রতিবেশীদের খুঁজে দিতে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও ফেসবুক পেজে নিয়মিত ছবি পোস্ট করেন। তাঁর পরিচিত বার্তাটি এখন এলাকায় বেশ জনপ্রিয় “এই আন্ডারওয়্যারগুলো কি আপনার?”
মজার বিষয়, এত কাণ্ড সত্ত্বেও প্রতিবেশীদের মধ্যে ক্ষোভের বদলে দেখা যাচ্ছে হাসি আর বিস্ময়। কেউ কেউ তো উল্টে অভিযোগ করছেন“লিও আমার জিনিস চুরি করল না কেন!” যদিও একজন প্রতিবেশী, যিনি বিড়ালে অ্যালার্জিক, তিনি এখন কাপড় ঘরের ভেতর শুকোচ্ছেন।
হেলেন চেষ্টা করেছিলেন লিওকে ঘরের ভেতর আটকে রাখতে, এমনকি বাড়িতে ইচ্ছা করে কাপড় রেখে দিয়েছিলেন কিন্তু কোনও কাজই হয়নি। “ও শুধু সেই জিনিসই চায়, যেগুলো ওর নেওয়া উচিত নয়,” হাসতে হাসতে বলেন তিনি। কারও পরামর্শে আরেকটা বিড়াল আনার কথাও ভাবেননি হেলেন। তাঁর আশঙ্কা, “ও আরেকটা বিড়ালকেও চোর বানিয়ে দেবে!”
লিওর এই ‘অপরাধ জীবন’ শুরু হয়েছিল বছরখানেক আগে, যখন প্রথমবার তাকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পরিবার আশা করছে, এটা শুধু সাময়িক দুষ্টুমি। হেলেনের কথায়, “আমি চাই ও বড় হলে এসব ছেড়ে দিক। ১৫ বছর ধরে এভাবে আন্ডারওয়্যার ফেরত দেওয়ার প্রশাসনিক কাজ করতে চাই না!”
এই মুহূর্তে তবে মাইরাঙ্গি বের রাস্তায় লিওনার্দো দা পিঞ্চি এখনো ‘ধরা-ছোঁয়ার বাইরে —একজন নিরীহ অথচ দুর্ধর্ষ চোর, যে পুরো পাড়া জুড়ে হাসির রোল তুলে দিয়েছে।
