আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটে কর্মী ছাঁটাই। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে বিপুল বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ফের কর্মী ছাঁটাই করা হবে সংস্থায়। মোট কর্মী সংখ্যার প্রায় ২.১ শতাংশ অর্থাৎ ৪,৮০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে সংস্থার তরফে। তেমনই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

চলতি বছরে শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এআই খাতে ৭০০ বিলিয়নের বেশি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। এই বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে আয়ের হিসাব মেলাতে এবং ক্রমবর্ধমান খরচ সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে একাধিক সংস্থা। সে কারণেই এ বছর অ্যামাজন, মেটা-র মতো সংস্থা হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে।

 

মাইক্রোসফটও এই মুহূর্তে ব্যবসায়িকভাবে তেমনই সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। চলতি বছরে প্রথম ছয় মাসেই তাদের শেয়ারের পতন হয়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। এ বছরের শুরুর দিকেই এই টেক জায়ান্ট তাদের মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ বা প্রায় ৯,০০০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিল। তারপর জুলাইয়েই এমন ঘোষণা।

 

এআই-এর ব্যাপক চাহিদার ফলে মাইক্রোসফটের 'অ্যাজুর' ক্লাউড-কম্পিউটিং ব্যবসার রমরমা বেড়েছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত বাজারে তারা ওপেনএআই-এর মডেলগুলির একচেটিয়া বিক্রেতা ছিল। কিন্তু এই এআই পরিষেবাগুলি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্টার তৈরির বিপুল খরচ বেড়েছে। ডেটা সেন্টারের ব্যাপক চাহিদার কারণে বাজারে মেমোরি চিপের দামও বেড়েছে অনেকটাই। ফলে মাইক্রোসফটও তাদের গেমিং কনসোল এক্সবক্স এর দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এ দিকে বাজারে এই কনসোলের চাহিদা ক্রমশ নিম্নমুখী। এ ছাড়া, যেসব এআই টুলস দিয়ে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কাজগুলি সহজেই সেরে ফেলা যায়, সেগুলি এখন মাইক্রোসফটের নিজস্ব লাভজনক সফটওয়্যার ব্যবসার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে মাইক্রোসফট এখন বেশ আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। আর তাই ফের কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।