আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় ২০ বছরের দীর্ঘ শাসনের পর গাজায় নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে ফেলার কথা ঘোষণা করেছে প্যালেস্টাইনের ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস। গাজায় অসামরিক শাসন ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের করা হবে। সেই কারণেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।
২০০৬ -এ সংসদীয় নির্বাচনে জয়ের পর ২০০৭-এ প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ফাতাহর কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছিল হামাস। সোমবারের এই ঘোষণার মাধ্যমে গাজায় এক বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটল। হামাসের মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা সংবাদসংস্থা এএফপি-কে জানান, সরকারি জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, "গাজার প্রশাসনিক ও সরকারি বদল এবং 'ন্যাশনাল কমিটি ফর দি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা' (এনসিএজি)-র কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর সহজ করতেই এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।" উল্লেখ্য, এই এনসিএজি কমিটিটি গঠন করা হয় ২০২৫ সালে। ওই বছর মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তার আওতায় 'বোর্ড অফ পিস' ওই কমিটি গঠন করে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এএফপি-কে বলেন, "আমাদের সংগঠন একটি নতুন পদক্ষেপ করেছে। যার ফলে আমরা আর গাজার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকব না। এর উদ্দেশ্য ইজরায়েলের দখলদারির সমস্ত অজুহাত দূর করা, যারা এখনও আমাদের উপর আগ্রাসন এবং ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছে।"
গাজার শাসনভার গ্রহণ করে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেই জানিয়েছে এনসিএজি। সমাজমাধ্যম এক্স-এ কমিটির প্রধান আলী শাথ লিখেছেন, 'ক্ষমতা হস্তান্তরের পর সঙ্গে সঙ্গেই কমিটি তাদের জাতীয় দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত। এই কমিটি সাফল্য নির্ভর করবে যখন একটি একক কর্তৃপক্ষ, স্পষ্ট ম্যান্ডেটসহ একটি একক আইন এবং সেই একক কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি একক সশস্ত্র বাহিনী-র নীতি মেনে চলতে সক্ষম হবে।
এদিকে 'বোর্ড অব পিস' হামাসের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বিবৃতি দিয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০২ নম্বর প্রস্তাব এবং গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজার সমস্ত অস্ত্র এনসিএজি-র নিয়ন্ত্রণে আসতে হবে।
প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করলেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। গাজার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মখাইমার আবুসাদ এএফপি-কে বলেন, হামাসের এই পদক্ষেপ মূলত একটি 'প্রতীকী পদক্ষেপ'। তিনি বলেন, "আসল সমস্যা তাদের সরকারি কমিটি বিলুপ্ত করায় লুকিয়ে নেই। বরং তারা নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে কিনা সেটাই চিন্তার। হামাস এখনও নিজেদের অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়নি। এটাই মূল বাধা হয়ে দাঁড়াবে।"















