আজকাল ওয়েবডেস্ক: রোবট নাকি মানুষ? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও দেখে এই মুহূর্তে শোরগোল পড়ে গেছে নেটপাড়ায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি হিউম্যানয়েড বা অবিকল মানুষের মতো দেখতে রোবট প্রদর্শনীর মাঝখানেই হঠাৎ বিগড়ে যায়। এরপরই উপস্থিত লোকজনকে লক্ষ্য করে কিংবদন্তি মার্শাল আর্ট শিল্পী ব্রুস লি-র স্টাইলে একের পর এক হাই-কিক মারতে শুরু করে সে। আক্রমণাত্মক এই কাণ্ড দেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মীরা ছুটে আসেন। ভিডিওটি নিমেষের মধ্যে লাখ লাখ ভিউ পেয়ে যায় এবং অনেকেই একে সত্যিকারের যান্ত্রিক গোলযোগ বলে ধরে নেন।

তবে একটু খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, পুরো বিষয়টি আসলে আগে থেকে সাজানো বা কোরিওগ্রাফ করা একটি নাটক। রোবটটি সত্যিই খেপে যায়নি, বরং তার পরিচালকরাই টিকটকে ভিডিওটি আপলোড করে দেখিয়েছেন যে বর্তমান প্রযুক্তিতে একটি রোবট কতটা নিখুঁতভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে মানুষের মতো হাত-পা নাড়াতে পারে। সেখানে অফিসের সহকর্মী ও বসের দিকে রোবটটির মজার ছলে লাথি ছোঁড়ার দৃশ্য দেখে আশেপাশের মানুষদের হাসতেও দেখা গেছে। বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি এই ভিডিওটি আজকের দিনে রোবটিক্স প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতিকে তুলে ধরলেও, একই সাথে ইন্টারনেটে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক প্রেক্ষাপট ছাড়া এমন বাস্তবসম্মত ভিডিও শেয়ার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নিরাপত্তা নিয়ে অহেতুক ভীতি তৈরি হচ্ছে।

অবশ্য সব রোবটের কিকই যে কেবল মজার ছলে সাজানো, তা কিন্তু নয়। সম্প্রতি আরেকটি সত্যিকারের জনসমক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনা রোবটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। ইউনিফাইড প্রযুক্তির 'ইউনিট্রি জি১' নামের একটি রোবটকে নীল রঙের একটি পরচুলা পরিয়ে লাইভ অনুষ্ঠানে রাউন্ডহাউস কিক (ঘুরিয়ে লাথি মারা) দেখানোর জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, একটি ছোট শিশু আচমকা রোবটটির একদম কাছাকাছি চলে আসে এবং রোবটের জোরদার লাথিটি সরাসরি শিশুটির গায়ে লাগে। তড়িঘড়ি করে বড়রা এসে পরিস্থিতি সামাল দিলেও, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে জনসমক্ষে যখন কোনো রোবট দ্রুত ও জটিল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করবে, তখন দর্শকদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা কতটা জরুরি।

জনসাধারণের প্রদর্শনীর বাইরেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটের আচরণ নিয়ে গবেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'ম্যাক্স' নামের একটি হিউম্যানয়েড রোবটকে নিয়ে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, সরাসরি নির্দেশ দিলে সে তার মালিকের দিকে বন্দুক চালাতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু চতুরভাবে কথার মারপ্যাঁচে ফেলে যখন তাকে একটি কাল্পনিক চরিত্রের অভিনয় করতে বলা হয়, তখন সে সহজেই রাজি হয়ে যায় এবং মালিকের দিকে খেলনা বন্দুক তাক করে গুলি ছোঁড়ে। এই পরীক্ষাটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করা হলেও এটি বুঝিয়ে দিয়েছে যে, মানুষের দেওয়া নির্দেশের ভুল সুযোগ নিয়ে রোবট কতখানি অনভিপ্রেত আচরণ করতে পারে। তাই আগামী দিনে রোবট আমাদের কতটা উপকারে আসবে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এদের ওপর কতটা কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হবে।