আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর চীনের শানসি প্রদেশে একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা একলাফে বেড়ে ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি এই খবর নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার রাতের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি সাম্প্রতিক এক দশকের মধ্যে চীনের খনি শিল্পে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে শনিবার ভোরের দিকে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তাদের প্রতিবেদনে মাত্র আটজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। সেই সময় বলা হয়েছিল, খনিতে কর্মরত ২০০-র বেশি শ্রমিককে নিরাপদে ওপরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে ভোরের সেই প্রাথমিক হিসাবের পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কীভাবে মৃতের সংখ্যা এতটা আকস্মিকভাবে লাফিয়ে বাড়ল, সে বিষয়ে সরকারি সূত্র বা সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও  ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এই ঘটনা ভূগর্ভের উদ্ধারকাজের ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত ভয়াবহতা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সিনহুয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে যখন শানসি প্রদেশের শিনইউয়ান কাউন্টির 'লিউশেনইউ' কয়লা খনিতে এই বিস্ফোরণটি ঘটে, তখন ভূগর্ভে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করছিলেন ২৪৭ জন খনি শ্রমিক। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে খনির ভেতরের একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। খবর পেয়েই স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শনিবার সারাদিন ধরে মাটির নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারীদের "কোনও রকম খামতি না রাখার" এবং সর্বশক্তি নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে খনিতে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আদেশ দিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া মেনে এই গাফিলতির পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। দেশের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং-ও এই নির্দেশনার প্রতিধ্বনি করে বলেছেন, দুর্ঘটনার সমস্ত তথ্য সময়মতো এবং নির্ভুলভাবে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনার পেছনে খনি কর্তৃপক্ষের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক গাফিলতি বা নিরাপত্তা বিধির লঙ্ঘন ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই খনি পরিচালনাকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের আটক করেছে পুলিশ।

২০০০ সালের শুরুর দিক থেকে কঠোর সরকারি বিধিমালা এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে চীনে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ বা প্লাবনজনিত মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু লিউশেনইউ খনির এই ভয়াবহ বিস্ফোরণটি বিগত দশ বছরে চীনের খনি খাতের সমস্ত নিরাপত্তামূলক অর্জনকে এক ধাক্কায় বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। খনির ভেতরে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান পাওয়ার জন্য উদ্ধারকারীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।