আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইবোলা সংক্রমণ নিয়ে আফ্রিকায় ফের বাড়ছে উদ্বেগ। কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) কাজ করার সময় এক আমেরিকার নাগরিক ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আমেরিকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির শরীরে সপ্তাহান্তে উপসর্গ দেখা দেয়। রবিবার তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সোমবারই তাঁকে জার্মানিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে আরও ছ’জনকে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডিআরসি এবং উগান্ডায় চলতে থাকা ইবোলা সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়েছে আমেরিকা। ইবোলা-আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের জন্য কড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারি শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।
আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ইবোলা সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণ কিভু প্রদেশে সাম্প্রতিক সংক্রমণের খবর পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। মধ্য আফ্রিকার বেশ কিছু অঞ্চলে ইবোলা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে হু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান সংক্রমণটি ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির কারণে ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত ডিআরসিতে প্রায় ৫০০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে এবং ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ধরনের ইবোলার জন্য এখনও কোনও নির্দিষ্ট টিকা নেই।
ইবোলা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মানুষের শরীরে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটাতে পারে। এই রোগ সাধারণত আক্রান্ত মানুষ বা প্রাণীর শরীরের রক্ত, ঘাম, লালা, বমি বা অন্যান্য শরীরের তরলের সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। বিশেষ করে বাদুড়কে এই ভাইরাসের প্রধান বাহক বলে মনে করা হয়। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা ছড়িয়েছিল ‘জায়ার’ নামের একটি স্ট্রেন।
ভয়াবহতার আশঙ্কা করে আমেরিকা ইবোলা-আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের জন্য কড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে। পাশাপাশি, গত ২১ দিনের মধ্যে উগান্ডা, কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) বা দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন এমন বিদেশি নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য আক্রান্ত যাত্রীদের চিহ্নিত করা যায়। পাশাপাশি সংক্রমণ রুখতে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ করা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। সিডিসি জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য এখনই ঝুঁকির কথা নেই বিশেষ। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।















